মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
চুক্তি আর ডলার আনতেই জাপান যাচ্ছেন ড. ইউনূস!
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২৭ মে) চার দিনের এক বিশেষ কূটনৈতিক মিশনে জাপান যাচ্ছেন। এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হবে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সোমবার (২৬ মে) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও এটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। ২৯ থেকে ৩০ মে টোকিওতে নিক্কেই ফোরামে যোগ দেবেন তিনি, যেখানে অংশ নেবেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা। সফরকালেই মানবসম্পদ উন্নয়ন, জ্বালানি, ওডিএ, বিএমইটি, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
সফরটিকে ঘিরে রয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনাও। টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জাপান এক চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি তুলতে পারে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ সফরে ড. ইউনূস জাপানের কাছে এক বিলিয়ন ডলারের স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তার প্রস্তাব তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, তার কূটনৈতিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের প্রখ্যাত সোকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে।
গণমাধ্যমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সফরের অন্যতম হাইলাইট হিসেবে ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ১৫ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এফওসি বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, এবার সেই বিষয়গুলো আরও বিস্তৃত আকারে আলোচনায় আসবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি স্থানান্তর থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ অধিবেশনে নিউইয়র্ক সফর, নভেম্বরে কপ-২৯ সম্মেলনে আজারবাইজান সফর, ডিসেম্বর মাসে ডি-৮ সম্মেলনে মিশর ভ্রমণ করেছেন তিনি।
চলতি বছর জানুয়ারিতে তিনি অংশ নেন দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে। এরপর মার্চে চীন, এপ্রিলে থাইল্যান্ড এবং সম্প্রতি কাতার ও ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন। এবার তার নজর জাপানে—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতেই।