মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
রিট খারিজেই রাজপথ কাঁপাল ইশরাকের বিজয়ের ঢেউ!
অনলাইন ডেস্ক
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ঘোষণার পথে আইনি বাধা দূর হওয়ায় উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তার সমর্থকরা। হাইকোর্টের রিট খারিজের খবরে তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ মিছিল শুরু করে তারা, যেটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাকরাইল ও মৎস্য ভবন এলাকায় ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে দাবিতে যোগ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টার পদত্যাগ।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না।
রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অপেক্ষমাণ সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠে। মুহূর্তেই মিছিলের ঢল নামে। “এই মাত্র খবর এল, জনগণের বিজয় হলো”, “দফা এক দাবি এক, আসিফের পদত্যাগ চাই”, “হই হই রই রই, আসিফ-মাহফুজ কোথায় কই?”—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মিছিলটি কাকরাইল মোড় থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সূত্রাপুর থেকে আসা আবদুর রহমান জানান, “সকাল ৮টা থেকেই আমরা এখানে। আদালত জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। তবে আন্দোলনের আরেকটি প্রধান দাবি, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগ, এখনও পূরণ হয়নি। দলীয় দাগযুক্ত কেউ অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে পারে না।”
স্বামীবাগের জাবেদ আলী আরও জোর দিয়ে বলেন, “এই দুই উপদেষ্টার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নাম বলব না, তবে সবাই জানে কারা। প্রধান উপদেষ্টার এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, না হলে তিনি নিজেও বিতর্কে জড়াবেন।”
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে কর্মসূচির শুরুটা ধীরগতি হলেও, হাইকোর্টের রায়ের পরপরই বৃষ্টিভেজা রাস্তায়ও সমর্থকদের ঢল নামে। কেউ পলিথিন বিছিয়ে বসেছেন, কেউ ভিজে গিয়েও থামেননি—সবাই উচ্ছ্বসিত।
হাজারো মানুষের জমায়েতে পুরো মৎস্য ভবন মোড় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকা—সেগুনবাগিচা, পল্টন, প্রেস ক্লাব, দোয়েল চত্বর, বিজয়নগর ও তোপখানা রোডজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
১৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমে নগর ভবন ঘিরে কর্মসূচি চললেও বুধবার থেকে তা স্থানান্তর হয় কাকরাইল মসজিদ মোড়ে। সারাদিনব্যাপী বিক্ষোভে স্লোগানে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইশরাক হোসেন নিজেই যোগ দেন কর্মসূচিতে। তিনি ঘোষণা দেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও নতুন করে উত্থাপন করেন।
রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত ইশরাক কর্মসূচিতে ছিলেন, আর অনেক নেতাকর্মী সারা রাত কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেন। আজও সেই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে তার সমর্থকরা, যেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে এক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপের সূচনা হলো।