মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
সীমান্ত উত্তপ্ত, ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিলো বাংলাদেশ!
অনলাইন ডেস্ক
ভারত থেকে পুশ-ইন বন্ধে দিল্লির সঙ্গে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সীমান্তে এভাবে পুশ-ইন করাটা গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে ভারত, বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি তালিকা পাঠিয়েছে, যা বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করছে।
বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, পুশ-ইন বন্ধে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার পরও এই প্রবণতা থেমে নেই। বিষয়টি থামাতে সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। দিল্লির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
দিল্লির প্রতিক্রিয়া কেমন জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তারা তাদের দিকটা কিছুটা ব্যাখ্যা করেছে, আর আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, এভাবে কাউকে পাঠানো মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) আছে, আমরা সেই কাঠামোর মধ্যেই চলতে চাই। তাদের দেওয়া তালিকা আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই করছি।”
ভারতীয় নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত আমার কাছে কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নেই। সাধারণত আমরা কাউকে জোর করে ফেরত পাঠাই না। তবে যাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে।”
নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরনো ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি পর্যালোচনা করে লাভজনক নয় এমনগুলো বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “ছোট-বড় অনেক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (MoU) হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই দুই দেশের সম্মতিতে হয়েছে। কোনো একপক্ষ চাইলে বাতিল করতে পারে, এমন ব্যবস্থাও কিছু চুক্তিতে আছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। সবকিছু নিয়ম মেনেই এগিয়ে নিতে চাই।”
ভারত নিয়ম লঙ্ঘন করছে কিনা—এই প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, “নিয়ম অনেকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেউ সরাসরি স্বীকার করে না যে সে নিয়ম ভাঙছে। আমাদেরও কূটনৈতিকভাবে সামলাতে হচ্ছে। ইতিবাচক-নেতিবাচক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়েই আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”
ভারতের সঙ্গে শতাধিক চুক্তির মধ্যে কতগুলো পর্যালোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত কোনো চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে সব কটির ক্ষেত্রেই আমরা নিজেদের অবস্থান মূল্যায়ন করছি। সময়মতো সেগুলো ভারতের সামনে তোলা হবে।”
সম্প্রতি ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কী করছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, “বাণিজ্য উপদেষ্টা বিষয়টি দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হচ্ছে, এবং আমরা তা কূটনৈতিকভাবে টেকআপ করছি।”
এদিকে বুধবার (২১ মে) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এমপি ও সিনেটর বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। চিঠির কপি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি সত্য কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এখনো আমার নজরে আসেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তো সবকিছু আগেই আসে। আনুষ্ঠানিকভাবে আসলে আমরা সেটা পর্যালোচনা করব।”
উল্লেখ্য, গণমাধ্যম জানায়—উক্ত চিঠির সত্যতা যাচাইয়ে দুপুরে দুই অস্ট্রেলীয় সিনেটরের কাছে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।