মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা ধরে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিউরো আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকূল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার ব্রেনের ইনট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের সিটিস্ক্যান করা হয়। সেই রিপোর্টে অবস্থার অবনতি ধরা পড়লে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। সবদিক বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও গ্রহণ করা হয়।
ডা. রফিক বলেন, গঠিত মেডিকেল বোর্ডে দেশের খ্যাতিমান নিউরো বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। বোর্ডে আছেন অধ্যাপক ডা. আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক, অধ্যাপক ডা. সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. কাদের শেখ, অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
এসময় মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনায় তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছে বলেও উল্লেখ করেন ডা. রফিক।
এর আগে শুক্রবার সকালে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে। এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিউরো সায়েন্স বিভাগে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে বিকেলে হঠাৎ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
ডা. রফিকূল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তবে ভবিষ্যতে মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।’
এদিকে, জুম্মার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান। তিনি কিছু সময় তার শয্যার পাশে অবস্থান করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে মির্জা আব্বাসকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।