সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
জেনারেশন-জেড নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে টালমাটাল হয়ে পড়েছে মাদাগাস্কার। টানা সহিংসতার মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা। কিন্তু এতেও থামেনি আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আবারও হাজারো বিক্ষুব্ধ তরুণ রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে, শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ।
বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্ট সরকারের পতন ঘোষণা করলেও শত শত তরুণ রাস্তায় ফিরে আসে। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে না পেরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে, তাতে মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
‘জেন-জি’ আন্দোলনের ডাকেই গত বৃহস্পতিবার থেকে মাদাগাস্কার কার্যত অচল হয়ে পড়ে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দায় স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে রাজোয়েলিনা সোমবার মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আহ্বান জানানো হলে মঙ্গলবার আন্দোলন আরও বেগ পায়।
ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা নিহত বিক্ষোভকারীদের জন্য ক্ষমা ও দায় স্বীকারের দাবি জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সরাসরি গুলি ব্যবহার করেছে।
তবে সরকারের দাবিকে মিথ্যা বলে জানিয়েছে মাদাগাস্কারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, “বিক্ষোভ নিয়ে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে, দায়িত্বশীলদের এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টির কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।”
এদিকে রাজধানী আন্তানানারিভো ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সড়ক অবরোধকালে একটি ক্ষুদ্র সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে; এরপরই আগুনের মতো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।
প্রথমে আন্তানানারিভোতে শুরু হলেও বিক্ষোভ এখন ছড়িয়ে পড়েছে আটটি শহরে। সহিংসতা ও লুটপাটের কারণে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস, কাঁদানে গ্যাস—সবকিছু দিয়েই জনতাকে দমন চেষ্টা চলছে।
বিদ্যুৎ ও পানি সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘জেন-জি’ আন্দোলন এখন পূর্ণমাত্রায় রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতায়। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই তৃতীয় দফা বিক্ষোভে দেশজুড়ে সংস্কারের দাবিতে জোরালো স্লোগান উঠছে।