শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
পঞ্চগড়ের বিজ্ঞানীর দাবিতে কেঁপে উঠল নিউটনের সূত্র!
অনলাইন ডেস্ক
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা আফসার আলী এক সাহসী দাবি তুলেছেন—স্যার আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নাকি ভুল! তার মতে, নিউটনের গতির প্রথম সূত্র আংশিক সঠিক হলেও অসম্পূর্ণ, দ্বিতীয় সূত্র পুরোপুরি নির্ভুল, আর তৃতীয় সূত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক যুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
৬৫ বছর বয়সী আফসার আলী দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) চাকরি করেছেন। ১৯৭৯ সালে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৯৬ সালে তিনি একটি নতুন ইঞ্জিন চালনার সূত্র উদ্ভাবনের দাবি করেন। তার ভাষায়, চক্রাকার যান্ত্রিক কৌশলে জড়ের জড়তা ধর্ম, ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ামুখী বলকে একই দিকে নিয়ন্ত্রণ করে পর্যায়ক্রমে গতি ও স্থিতিতে রূপান্তর করলেই উৎপন্ন হয় স্থায়ী গতি শক্তি—যা জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ছাড়াই যান্ত্রিক শক্তি জোগাতে সক্ষম।
তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম সূত্রে বাহ্যিক বলের উৎসের ব্যাখ্যা নেই, ফলে এটি অসম্পূর্ণ। দ্বিতীয় সূত্র—ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক—সম্পূর্ণ সঠিক। কিন্তু তৃতীয় সূত্র—প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে—তিনি এটিকে কল্পনাপ্রসূত বলে মনে করেন। আফসারের মতে, আসল ব্যাখ্যা হওয়া উচিত—প্রত্যেক ক্রিয়ার ঘর্ষণ, বাধা ও প্রতিক্রিয়া থাকে। এই তিনটি সমান হলে বস্তু স্থির থাকে, আর বাধাহীন পথে গতি জড়তার কারণে অব্যাহত থাকে।
গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি ইউ-আকৃতির সিলিন্ডার বানিয়ে পরীক্ষা চালান। এতে পানি ঢালার পর আটকে থাকা বায়ুর চাপ মুক্ত হলে, পানির পতনে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি দিয়ে জ্বালানি ছাড়া ইঞ্জিন চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। নিজের পকেট থেকে খরচ করে একাধিক ছোট ডিজেল ইঞ্জিন কিনে পরীক্ষা চালিয়েছেন, ফলে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে তার আবিষ্কার যাচাইয়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি। তবুও আফসারের বিশ্বাস, সুযোগ পেলে তার প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
১৯৭৫ সালে জগদল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ১৯৭৮ সালে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন তিনি। বহু প্রবন্ধ ও বই লিখেছেন, কিন্তু প্রকাশের সুযোগ মেলেনি। বর্তমানে তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সুযোগ চান।
আফসার আলী বলেন, “রকেট প্রতিক্রিয়ার বলে চলে—এটা ভুল। আসল কারণ হলো ভরবেগ, যা দ্বিতীয় সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। আমার মতে তৃতীয় সূত্র শুধু যুক্তি, বাস্তব নয়।”
তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন জানান, আফসার আলী বহুদিন ধরে নিউটনের তৃতীয় সূত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছেন এবং নিজের গবেষণায় নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, এর আগে আফসার জ্বালানি ছাড়া পানি তোলা বা যন্ত্র চালানোর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন, যদিও তেমন ফল আসেনি। এখন তিনি বিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক সূত্রকে চ্যালেঞ্জ করছেন, যা সহজে বোধগম্য নয়। তবে বিজ্ঞান সবসময় প্রমাণনির্ভর—যদি আফসার প্রমাণ দেখাতে পারেন, তবে তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
তার মতে, সরকারি বা সামাজিক সহযোগিতায় আফসার আলীকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে জানা যায় তার তত্ত্বে সত্যিই কোনো বৈপ্লবিক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে কি না।