বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
যেখানে দারিদ্র্য ছিল বাধা, সেখানে স্বপ্ন আর লড়াই গড়ে তুলল এক সাহসী পাইলট!
সানোয়ার হোসেন ছানু, ইসলামপুর
জামালপুরের এক ছোট্ট গ্রামে জন্ম নেওয়া তাইবা আফরোজের জীবনের গল্প যেন এক অনুপ্রেরণার মহাকাব্য। দারিদ্র্যের কঠিন দেয়াল ভেঙে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা সহজ ছিল না, কিন্তু তাইবা আর তার পরিবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।
করোনা মহামারীর সময় যখন তার বাবার ছোট্ট দোকান বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরিবারের জন্য নেমে আসে এক কঠিন দুঃসময়। অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়লেও তাইবার মা এক মুহূর্তের জন্যও মেয়ের স্বপ্নের পথ রুদ্ধ করেননি। বরং তিনি তাইবাকে সাহস যুগিয়েছেন, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছেন।
সমাজের নানা বাধা, কটূক্তি, আর্থিক টানাপোড়েন—সবকিছুকে উপেক্ষা করে তাইবার মা-বাবা এক চরম সিদ্ধান্ত নেন। নিজেদের জমি বিক্রি করে মেয়েকে পাইলট বানানোর জন্য সর্বস্ব বাজি ধরেন। কারণ তারা জানতেন, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে সাহস আর আত্মবিশ্বাসই যথেষ্ট।
২০২০ সালে সরকারি বিমান চলাচল প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে তাইবা তার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। পাইলট হওয়ার জন্য যেখানে ২০০ ঘন্টা বিমান প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, সেখানে তাইবা একাই ১০০ ঘণ্টা বিমান উড়িয়েছেন! তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস প্রশিক্ষকদের মুগ্ধ করে।
আজ তাইবা আফরোজ শুধু একজন পাইলট নন, তিনি লক্ষ মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। তাইবার আকাশ ছোঁয়ার গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।