বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও এবার প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
তার এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল, আইন বিশেষজ্ঞ, কূটনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, এটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার একটি কৌশল। আবার অন্যদের মতে, দীর্ঘদিন নির্বাসিত থাকার পর বাস্তবেই দেশে ফেরার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি পর্যায়েও বিষয়টির আইনি ও কূটনৈতিক দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সহজ হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ তিনি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নন, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে শত শত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যে পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, দুই বছর পরও সেই বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকায় দলটির প্রকাশ্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও সীমিত। ফলে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রাজনৈতিক, আইনি এবং কূটনৈতিক—এই তিনটি দিকের ওপরই সমানভাবে নির্ভর করছে।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে শেখ হাসিনা একদিকে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন বার্তা দিতে চাইছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের দাবি, এটি বাস্তবায়নের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টাই বেশি।
এদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেক বিশ্লেষক।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে আলোচনা যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়ে কম নয় আইনি বাস্তবতা। কারণ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে সারা দেশে অসংখ্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ফলে তিনি দেশে ফিরলে আইনের দৃষ্টিতে কী ধরনের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে মোট ৬৬৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৩টি হত্যা মামলা। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ার পৃথক ঘটনায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাকে বিমানবন্দর অথবা সীমান্ত থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। এরপর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে আইনের দৃষ্টিতে তার জন্য একটি সুযোগও রয়েছে। যদিও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়েছে, তবুও তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করলে আদালতের অনুমতি নিয়ে আপিল করার সুযোগ চাইতে পারবেন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
শেখ হাসিনা নিজেও দাবি করেছেন, তিনি দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান। তার ভাষ্য, বিচার শুরু হলে আদালতের কার্যক্রম কতটা নিরপেক্ষ বা প্রহসনমূলক—তা জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে এবং তিনি আদালতেই নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।
অন্যদিকে সরকারের অবস্থান ভিন্ন। তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তিনি চাইলে বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সরকার সেটিই বাস্তবায়ন করবে। সরকারের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্দীন মালিকের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা অনেকাংশেই ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া কোনো সাবেক সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানকে ফেরত আনার নজির খুবই সীমিত। বিশেষ করে আশ্রয়দাতা দেশ যদি মনে করে, নিজ দেশে ওই ব্যক্তি ন্যায়বিচার নাও পেতে পারেন, তাহলে তাকে প্রত্যর্পণ করার সম্ভাবনা আরও কমে যায়।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৭৫ সালের পরও তিনি কয়েক বছর ভারতে অবস্থান করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় দিল্লি সহজে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেবে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তবে ড. শাহ্দীন মালিকের মতে, যদি কোনোভাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বর্তমান আইনি অবস্থান অনুযায়ী তাকে সরাসরি কারাগারে নেওয়া হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম চলবে।
তিনি অতীতের একটি উদাহরণও তুলে ধরেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত অবস্থায় দণ্ডিত হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বাতিল হয়েছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনা নিজেও সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি নিরাপত্তা ঝুঁকিরও মুখে পড়তে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের যে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগের জন্য পরিস্থিতি এখনো অনুকূল নয়। ফলে তার দেশে ফেরা শুধু আইনি নয়, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দিক থেকেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা। গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদেও অনুমোদন পেয়েছে। ফলে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং তা রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আইনগত বাস্তবতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার একটি রাজনৈতিক বার্তাও হতে পারে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে বা বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরির উদ্দেশ্যেও এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের মত।
অন্যদিকে ভারতের একাংশের পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দিল্লির নীরব সম্মতি ছাড়া শেখ হাসিনা এমন ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, যদি তিনি সত্যিই দেশে ফেরেন, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর ইস্যুর অবসান ঘটতে পারে। আবার অনুকূল পরিস্থিতি না থাকলে ভারতও বলতে পারবে যে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ফলে বিষয়টিকে অনেকেই কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
ভারত সরকার অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, বিশেষ নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং সেই বিবেচনায় তাকে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার প্রত্যর্পণ বা বাংলাদেশে ফেরার প্রশ্নটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় এবং বিদ্যমান আইন ও দুই দেশের মধ্যে কার্যকর চুক্তি অনুযায়ীই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, দিল্লি বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বদলে আইনি কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠালেও ভারত এখনো সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক এ কে এম আতিকুর রহমানের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে, তবে কবে সেই পরিবর্তন আসবে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তার মতে, যদি শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন, তাহলে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত হতে হবে যেখানে তার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অবস্থান এবং আইনগত প্রক্রিয়া—সবকিছুই তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ সব সময়ই জটিল বিষয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত অনেক আসামিকে এখনো বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনও সহজ হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আইনগতভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ আইন এবং ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনা, আইনি আপত্তি, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং আশ্রয়দাতা দেশের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু চুক্তি থাকলেই প্রত্যর্পণ নিশ্চিত হয় না।
বর্তমান সরকারের অবস্থান হলো, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সরকার বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে নয়, আইনের শাসনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনি, কূটনৈতিক এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রাখবে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ, ভারতের সিদ্ধান্ত, দুই দেশের আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং কূটনৈতিক সমঝোতা—এসব উপাদানের সমন্বয়েই শেষ পর্যন্ত এ প্রশ্নের উত্তর নির্ধারিত হবে। তাই নিকট ভবিষ্যতে তার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত বলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি একেবারে অসম্ভব বলাও বাস্তবসম্মত হবে না।