সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
নেক সন্তান পেতে চান? এই তিন আমল মিস করবেন না!
অনলাইন ডেস্ক
অবাধ্য সন্তান হলে বাবা-মায়ের জীবন হয়ে ওঠে এক অন্ধকার যাত্রা। তাই প্রত্যেক মা-বাবার কামনা থাকে, যেন তার সন্তান হয় নেক এবং আল্লাহর কাছ থেকে একটি মহামূল্যবান উপহার। নেক সন্তান পাওয়া মহান আল্লাহর বড় একটি অনুগ্রহ। আর এই নেক সন্তান লাভের জন্য কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তিনটি অত্যাবশ্যক আমল রয়েছে। এই তিন আমলেই মহান আল্লাহ তাআলা নেক সন্তান দান করেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই তিনটি আমল:
১. আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়া করা
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানবজাতিকে নির্দেশ দিয়েছেন, শুধু তাঁর কাছেই প্রার্থনা করতে। কীভাবে প্রার্থনা করতে হবে, তা পবিত্র কোরআনে পরিষ্কার বর্ণনা আছে। নেক সন্তান কামনা করলে নিচের মতো সুন্দর কয়েকটি দোয়া করতে পারেন। যেমন:
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا
উচ্চারণ: ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনাও ওয়াজ’আলনা লিলমুত্তাক্কিনা ইমামা।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানকে আমাদের চোখের আলো করে দিন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের (ভয়পক্বদের) মধ্যে নেতা বানান।’ (সূরা ফুরকান: আয়াত ৭৪)
যাদের সন্তান হয় না, তাদের জন্য হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালামের দোয়াও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক। তিনি বলেন:
رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ
উচ্চারণ: ‘রাব্বি লা তাজারনি ফারদাও ওয়া আংতা খায়রুল ওয়ারিছিনা।’
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! আমাকে একা অবহেলিত করো না, কারণ তুমি সেরা উত্তরাধিকারী।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ৮৯)
হজরত জাকারিয়া আরও একবার বলেন:
رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
উচ্চারণ: ‘রাব্বি হাবলি মিল্লাদুংকা জুররিয়াতান ত্বাইয়েবাতান; ইনাকা সামিউদ দোয়া।’
অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান কর, তুমি অবশ্যই দোয়া শোনো।’ (সূরা আল-ইমরান: আয়াত ৩৮)
২. সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা
নেক সন্তান পেতে হলে শয়তান থেকে নিজেকে রক্ষা করাও জরুরি। তাই সবসময় আল্লাহর কাছে এভাবে প্রার্থনা করতে হবে:
بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তানাও ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা।’
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ, আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং যা সন্তান দেবেন তাতে শয়তানকে বিরক্তি দিতে দিও না।’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দাম্পত্য মিলনের আগে যদি কেউ এই দোয়া করে, তবে সন্তানের জন্মে শয়তান ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী)
৩. নিজেদের পাপ-অপরাধ থেকে বিরত থাকা
নেক সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় দান। এজন্য স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের চরিত্র পরিশুদ্ধ ও গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। নেক আমল পালন ও পবিত্র জীবন যাপন করলেই মহান আল্লাহ তাদের নেক সন্তান দান করবেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো অনুসরণ করে সকল মা-বাবাই পেতে পারেন তাদের প্রিয় নেক সন্তান।