রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
নামাজ মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং কল্যাণের দিশা দেখায়। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নারী-পুরুষের জন্য নামাজ ফরজ ইবাদত।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো’ (সুরা ত্বহা : ১৪)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের নামাজ (কায়েম কর)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)
রাব্বুল আলামিন আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)।
নামাজের ভেতরে ও বাইরে বেশ কিছু ফরজ ও শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পবিত্র পোশাক পরিধান করা। নাপাক বা অপবিত্র কাপড়ে নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না। তাই নামাজের সময় এমন পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরিধান করা জরুরি, যা শরীর যথাযথভাবে আবৃত রাখে।
শালীন পোশাকের ক্ষেত্রে ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো ধরন বেঁধে দেওয়া হয়নি। জার্সি বা এ ধরনের পোশাক পরেও নামাজ আদায় করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পোশাকে যেন কোনো প্রাণী বা মানুষের ছবি না থাকে। এমন ছবি থাকলে ওই পোশাক পরে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইকরা’র ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জার্সিতে যদি প্রাণী কিংবা মানুষের ছবি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকে, তাহলে নামাজ আদায় হয়ে গেলেও তা মাকরুহ হবে। তবে ছবিটি যদি এতটাই অস্পষ্ট হয় যে সহজে শনাক্ত করা না যায়, তাহলে মাকরুহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।’
তিনি আরও জানান, ইসলামে প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে গাছপালা, পাহাড়, ঝরনা কিংবা অন্যান্য প্রাণহীন বস্তুর ছবি ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ ৪৪৮৯)
মুফতি ইয়াহইয়া বলেন, ‘অনেকের ধারণা, ছবিযুক্ত পোশাক কেবল নামাজের সময় পরিধান করা নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এ ধারণা সঠিক নয়। নামাজে ব্যবহার করা হোক বা না হোক, প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড় পরিধান করা মাকরুহে তাহরিমি বা হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৯)