রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
শাড়িপ্রেমী না হয়েও চোখ আটকে যাবে এখানে, রঙ আর বুনন এমনই!
অনলাইন ডেস্ক
ফ্যাশনসচেতন এক বন্ধুর ফেসবুকে নজরকাড়া শাড়ির ছবি দেখে মনে হতো, দামি ব্র্যান্ডের কিছু! কিন্তু না, শাড়িগুলোর মূল রহস্য ছিল ভিন্ন—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছতলা হাট। এই শাড়ির হাট নিয়ে আগ্রহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন গাজীপুর, সাভার বা এমনকি ঢাকাও জানে গাছতলা মানেই ইউনিক শাড়ির গন্তব্য!
আগে গাছতলার নিচে পাটি পেতে বসত হাট, এখন মামা মার্কেটের পাশে ভ্যানেই চলে এই রঙিন শাড়ির মেলা। একেকটা ভ্যানে সাজানো হালকা রঙ, চিকন পাড়, হাতের কাজ, ডিজিটাল প্রিন্ট বা ব্লক প্রিন্টের চোখধাঁধানো শাড়ি। দাম? ৪৫০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকার মধ্যেই দারুণ সংগ্রহ। দরদামও চলে অনায়াসে।
বিক্রেতাদের গল্পও যেন শাড়ির মতোই বৈচিত্র্যময়। কেউ একাই চালাচ্ছেন পারিবারিক ব্যবসা, কেউ অনলাইনের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত। মানিকগঞ্জ আর টাঙ্গাইল থেকে আগত এসব শাড়ি এখন ঢাকার বাজারে বিক্রি হয় দ্বিগুণ দামে। কিন্তু এখানকার বিক্রেতারা জানেন, শাড়ির গুণমান আর দামের ভারসাম্যই তাঁদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বছর দশেক আগে এক টাঙ্গাইলের তাঁতির হাত ধরে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ নিজেই এক লোককাহিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে এসে শাড়ি নিয়ে আসতেন তিনি—ভালো বিক্রি দেখে শুরু করেন পাটি পেতে বিক্রি। তাঁর দেখাদেখি আরও অনেকে এসে যোগ দেন এই শাড়ির হাটে।
উৎসব এলে বাড়ে বিক্রি, দিনে বিক্রি হয় ১৫–২০ হাজার টাকার শাড়ি! আর তাই হাটের জনপ্রিয়তাও এখন আকাশচুম্বী। আলাদা করে জায়গা ভাড়া নেই, সাজানো দোকান নেই, তবুও ক্রেতারা একবার এলে খালি হাতে ফেরেন না।
ফ্যাশনের পোকা হোন আর না হোন, গাছতলার শাড়ির হাটে গেলে মনে হবে—এখানে শাড়ি শুধু কাপড় নয়, এ যেন গল্প, ঐতিহ্য আর শিল্পের মিশেল।