সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
প্রচণ্ড গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা আখের রস অনেকের কাছেই তাৎক্ষণিক স্বস্তির উৎস। রাস্তার মোড়, বাজার কিংবা ফুটপাতে গ্রীষ্ম এলেই এই জনপ্রিয় পানীয় সহজেই পাওয়া যায়। কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই আখের রস বেছে নেন। তবে স্বস্তিদায়ক এই পানীয় আদৌ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে।
আখের রসে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও এতে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে পানি ও শক্তি কমে যায়, আখের রস তা আংশিকভাবে পূরণ করতে পারে। এজন্য অনেকেই একে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এর উপকার পেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তার পাশের অনেক দোকানে আখের রস তৈরির সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে আখ পেষার মেশিন দীর্ঘ সময় পরিষ্কার না করায় সেখানে ধুলাবালি ও জীবাণু জমে থাকে।
এছাড়া রস তৈরিতে ব্যবহৃত পানি বা বরফ অনেক সময় বিশুদ্ধ থাকে না। ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। খোলা পরিবেশে রাখার কারণে মাছি, ধুলা ও দূষিত বাতাস থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। অনেক দোকানে তৈরি রস দীর্ঘ সময় রেখে পরে বিক্রি করায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
অস্বাস্থ্যকর আখের রস থেকে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড কিংবা জন্ডিসের মতো রোগ হতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, আখের রস নিজে ক্ষতিকর নয়। পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে তৈরি হলে এটি গরমে উপকারী পানীয় হতে পারে। তাই মূল বিষয় হলো পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা।