বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দেবেন ড. মোহাম্মদ ইউনুস। এ নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে অংশ নেবে। তবে যারা একসময় দেশকে নিজেদের স্বার্থে বন্দি রেখেছিল, তারা এখন নির্বাচনের আগে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, সহসভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা, আক্তারুজ্জামান ও জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস হলো সমাজ বদলের ইতিহাস। একসময় মানুষ যখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনে আবদ্ধ ছিল, তখন সমাজবদ্ধ হয়ে সভ্যতার দিকে অগ্রসর হয় এবং নিজেদের শাসক নির্বাচিত করে। তিনি বলেন, মদিনা সনদই ছিল বিশ্বের প্রথম সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তি। একইভাবে জুলাই বিপ্লবও জনগণের ঐক্য ও চুক্তির ভিত্তিতেই বর্তমান সরকারকে বৈধতা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বেই আগামি ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ আন্তরিকভাবে ভোট দেবে, এটাই সরকারের সঙ্গে তাদের সামাজিক অঙ্গীকার।”
অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করেন, অতীতে লাখো মানুষ রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মুখোমুখি হয়েছেন। সাংবিধানিক সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে জনগণই জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। সেই আন্দোলনেই বর্তমান সরকারের বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা গণতন্ত্রের গতিপথ রুদ্ধ করতে চায় কিংবা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তাদের আইন অনুযায়ী জবাব দেবে জনগণ।” তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে—বিনা বিচারে কেউ রেহাই পাবে না।
সভায় বক্তারা বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দেশ—যেখানে আর কোনো মা-বোনকে প্রিয়জনের জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে হবে না।