বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
হজ ও ওমরাহ মেলায় মানসম্মত সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ।
অনলাইন ডেস্ক
হজ ও ওমরাহ মেলা আগামী ১৪ আগস্ট (শনিবার) থেকে শুরু হচ্ছে। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর উদ্যোগে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ১৬ আগস্ট (সোমবার) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ আয়োজন।
হজ মুসলিমদের পাচঁটি স্তম্ভের অন্যতম এবং হজযাত্রীরা আল্লাহর বিশেষ অতিথি। তারা যেন সুন্দরভাবে এ মহান ইবাদাত পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার অনুমোদিত হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলো মেলায় অংশ নিচ্ছে।
২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, হয়রানিমুক্ত ও মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তিনি বলেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় আমরা আগের চেয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করব। মেলায় আমাদের ইসি কমিটিসহ এজেন্সি মালিকগণ সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। ফলে হজযাত্রী হয়রানির কোনো সুযোগ থাকবে না, তবুও যদি কোনো অনুমোদিত এজেন্সি হয়রানিতে জড়ায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
সৈয়দ গোলাম সরওয়ার আরও জানান, মেলা চলাকালীন হাব, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় থাকবে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রতি বছরই দেখা যায় সাধারণ মানুষ অসাধু ও অবৈধ এজেন্সির চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে প্রতারিত হয়। তাদের ফাঁদে পড়ে অনেকে অতিরিক্ত খরচ, ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন। এসব বন্ধে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও একীভূত ব্যবস্থার প্রয়োজন, যার একটি বড় অংশ হচ্ছে এ জাতীয় হজ ও ওমরাহ মেলা। বৈধ হজ এজেন্সি ও হজ-ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে এ মেলা যোগসূত্র সৃষ্টি করবে।
এবারের আয়োজনে প্রায় ১৫০টি অনুমোদিত হজ ও ওমরাহ এজেন্সি অংশ নিচ্ছে, যারা হাজি ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ ও তথ্যসেবা প্রদান করবে। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী উপযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া টিকিট বুকিং, অর্থ লেনদেন এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সম্পর্কিত সহায়তার জন্য মেলায় বিভিন্ন ব্যাংক ও এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
হাবের সহসভাপতি শামীম সাঈদী বলেন, যারা আল্লাহর ঘরে যাত্রা করছেন, তারা যেন নির্বিঘ্নে আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে এ আয়োজন। বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক হাজি হজক্যাম্পে এসেও শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে যেতে পারেননি। এমন পরিস্থিতি এ বছর থেকে রোধে শুরু থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।