বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তায় ঢাকায় এলেন সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক!
অনলাইন ডেস্ক
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সহায়তায় ঢাকায় এসেছেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের খ্যাতিমান চিকিৎসক ডা. চোং সি জ্যাক।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত গভীরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখানেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পরপরই আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রমে পরামর্শ ও সহায়তা দিতেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. চোং সি জ্যাক বাংলাদেশে আগমন করেছেন। চিকিৎসা খাতে এ পদক্ষেপটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার (২৩ জুলাই) ঢাকায় আসছেন আরও তিনজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি। তারা হলেন—সিং হেলথের সিনিয়র ডিরেক্টর বিজয়া রাও, পুন লাই কুয়ান ও লিম ইউ হান জোভান।
এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, উত্তরায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে সিঙ্গাপুর থেকে একটি মেডিকেল টিম রওনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এই টিমকে আহ্বান জানানো হলে তারা দ্রুত সাড়া দেয় এবং আহতদের কেস রিপোর্ট বিবেচনা করে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও দুইজন দক্ষ নার্সকে পাঠিয়েছে।
এদিকে, আইএসপিআর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তালিকায় নিহতের সংখ্যা বলা হয়েছে ২৭, যার মধ্যে ২৩ জনই শিশু। রাতে এই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পৌঁছে যায় ৩২ জনে।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনও অজানা। এখন পর্যন্ত ২০টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে, আর ৬টি রাখা রয়েছে সিএমএইচের হিমঘরে। রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে নিহত বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের মরদেহ।
আইএসপিআর প্রকাশিত তালিকা অনুসারে এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট ১৬৫ জন। এর মধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ৮ জন, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৬, ঢাকা মেডিকেলে ৩, সিএমএইচে ২৮, লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১৩, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৬০, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১, ইউনাইটেড হাসপাতালে ২ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩ জনের চিকিৎসা চলছে।