সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন পরিবর্তনের সীমানায়, মাহফুজ আনাম জানালেন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ!
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর ‘Nothing But The Truth’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে মাহফুজ আনাম বলেন, বিএনপি এখন অপেক্ষমাণ শক্তি, কারণ তাদের ধারণা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো নির্বাচনকে নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামী এখনো দ্বিধাগ্রস্ত, তারা নির্বাচন হলে অংশ নেবে, আবার স্থগিত হলেও আপত্তি নেই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন শক্তি হিসেবে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) আত্মপ্রকাশ করেছে, যা মূলত ছাত্র আন্দোলন থেকে গঠিত। এনসিপি বাংলাদেশের প্রচলিত দ্বিদলীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চায় এবং তাদের লক্ষ্য একটি ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করা। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী বাস্তবতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে ছাত্র সংগঠনগুলো এখনো নিশ্চিত নয় যে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। বিপরীতে, বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং ক্ষমতায় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানের আলোচনায় ভারতীয় উপস্থাপক রাজ চেঙ্গাপ্পা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইসলামিকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে কি না, এ নিয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। এনসিপির সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের মতো বিষয় বাদ দেওয়ার ইঙ্গিতও এসেছে।
মাহফুজ আনাম এসব প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যদিও জামায়াতে ইসলামী কিছুটা প্রভাবশালী হয়েছে, তাদের ভোটের হার এখনো ১০ শতাংশের বেশি হয়নি। তিনি ভারতীয় বন্ধুদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়, কারণ এ দেশ ধর্মীয় মৌলবাদকে কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি।
বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং নতুন সরকারের কিছু নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জনগণের একাংশ ভারতবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে।
তবে মাহফুজ আনাম আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে এবং দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে, যেখানে পুরোনো শক্তিগুলোর পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলও এগিয়ে আসছে। রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের ওপর।