শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
ঢাবিতে আরেকটি লাশ, নিরাপত্তাহীনতায় ফুঁসছে ছাত্রসমাজ!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এএফ রহমান হলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যকে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যর্থতার দায়ে উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগও দাবি করেছে তারা।
বুধবার (১৪ মে) দুপুর বারোটায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই দাবি তুলে ধরেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর আমরা ভেবেছিলাম ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধ হবে। কিন্তু সাম্যকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ। আমরা চাই, অবিলম্বে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নাহলে উপাচার্য ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, “সাম্যকে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু নৃশংস নয়—সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এর আগে তোফাজ্জল নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থী খুন হয়েছিলেন। প্রশাসন তখনও নীরব ছিল, এখনো আছে। আমরা প্রক্টরের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছি এবং উপাচার্যের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “গত রাত থেকে উপাচার্য কিংবা প্রক্টরের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বক্তব্যও আমরা পাইনি। আমরা দাবি জানাচ্ছি, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী হামলার শিকার না হন। আমাদের কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, কোনো শিক্ষক যেন ছাত্রদলের দ্বারা অপদস্থ না হন। কিন্তু গতরাতে উপাচার্য যে আচরণ করেছেন তা অসম্মানজনক। আমরা আশা করছি, তিনি সম্মানের সাথে পদত্যাগ করবেন। যদি ছাত্রদলের একজন কর্মীও হামলার শিকার হন এবং সরকার নীরব থাকে, তাহলে ছাত্রদল রাজপথে তীব্র আন্দোলনে নামবে। সাম্য হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
এই প্রতিবাদে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজসহ ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।