শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
ছাত্রত্ব নেই, তবু কুবিতে প্রবেশ করে মারধর করলেন!
অনলাইন ডেস্ক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মচারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে রেজিস্ট্রার দপ্তরের সামনে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, যা পরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত হয়।
নবনিযুক্ত কার্য সহকারী হিসেবে ওই কর্মচারী সেদিনই যোগ দেন। অপরদিকে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান কুবিতে হিসাবরক্ষক পদে আবেদনকারী ছিলেন। বর্তমানে তিনি আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা হলেও, কুবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সকালে ফোনে দেখা করার আহ্বান জানান মেহেদী। কর্মচারীটি ব্যস্ত থাকায় দেখা করতে পারেননি। বিকেলে মেহেদী ক্যাম্পাসে এসে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে “তুই আজাদ?” বলেই তাঁর ওপর চড়াও হন। ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারও তখন পাশে ছিলেন। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের বাইরে আবারও তাঁকে ঘিরে ধরে হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পেছনে রয়েছে বিতর্কিত নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। দাবি উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় নিয়োগে তদবির করছিলেন মেহেদী হাসান। অভিযোগ রয়েছে, কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে ক্ষোভ থেকে তিনি এ হামলা চালান। কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর বলেন, “ঘটনাটি সত্য হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, “শিক্ষাঙ্গনে মারধরের কোনো স্থান নেই। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গণমাধ্যমে স্বীকার করেন, “আমি কল দিয়ে দেখা করতে বলেছিলাম। সে ফোন কেটে দেয় ও বন্ধ করে রাখে। আমি রেগে গিয়ে এক থাপ্পড় মেরেছি।”
ছাত্রদলের কুবি শাখার সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, “এটা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এমন ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ছাত্রত্ববিহীন ব্যক্তির প্রবেশ ও মারধরের ঘটনায় এখনো কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, “ভুক্তভোগী আমাকে ফোনে জানায়। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সে ঘটনারও বিচার হয়নি।