শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
যশোর মেডিকেল কলেজে উত্তাল রাজনীতি, বন্ধ হলো সব কার্যক্রম!
অনলাইন ডেস্ক
তারা ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র স্লোগান সামনে রেখে প্রকাশ্যে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ওইসব শিক্ষক যশোর মেডিকেল কলেজকে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে দিয়ে দেন। যমেকে এমন কোনো কার্যক্রম ছিল না যা তাদের মর্জির বাইরে পরিচালিত হতো না।
অন্যদিকে, পুরো ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র দখলদারিত্ব চালায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। রাজনীতির ছদ্মাবরণে শিক্ষক দলাদলিতে সক্রিয় ভূমিকা, টেন্ডার থেকে বদলি—সব ক্ষেত্রেই ছাত্রলীগের ছিল দাপুটে উপস্থিতি। তারা ক্যাম্পাসে কোনো বিকল্প ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্বই সহ্য করত না। তাদের লাগামহীন অপকর্ম বহুবার যশোর মেডিকেল কলেজকে গণমাধ্যমের শিরোনাম বানিয়েছে।
এই কথিত ‘স্বাধীনতাপন্থীদের’ বেপরোয়া আচরণে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য মতাদর্শধারীরা বরাবরই চরম নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। সামান্য মতবিরোধেই অনেক শিক্ষককে (চিকিৎসক) বদলির শিকার হতে হয়েছে স্বাচিপ-ছাত্রলীগের নগ্ন প্রভাবের কারণে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যমেকের বহু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্যাম্পাসের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। যারা একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গ পেতে ‘লবিং’ করতেন, তারাই এখন বিএনপিপন্থি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ছায়ায় একত্রিত হওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতারাও এখন ছাত্রদল বা অন্যান্য সংগঠনে ঢুকে পড়ছেন।
মূলত ক্ষমতার বলয় নিজেদের কব্জায় রাখতে চায় ওইসব সাবেক সুবিধাভোগী শিক্ষক ও ছাত্রলীগের ভোলবদলকারী কর্মীরা। তাদের প্ররোচনাতেই ‘সন্ধানী’ সংগঠনে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠিত হয়েছে। পৃথক কর্মসূচি ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ড্যাব-সংশ্লিষ্ট নেতারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে এই উত্তেজনায় ইন্ধন দিচ্ছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই দ্বন্দ্বের আসল বলি তারাই। তাই ক্যাম্পাসে শান্তি ফেরাতে ‘সন্ধানী’-র সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসনাত মো. আহসান হাবীব বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বিভাজন ও মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে পারত। তাই সন্ধানীসহ সব সংগঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে দেব না। সুশৃঙ্খল একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত।”