রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
একটা সময় ছিল, যখন শাহরিয়ার নাজিম জয়কে শুধু অভিনেতা হিসেবেই চিনত দর্শক। তারপর উপস্থাপনায় এসে বাজিমাত করলেন। নির্মাণেও নাম লেখালেন। ক্যারিয়ারের এই বহুমাত্রিক অভিযাত্রার মধ্যেই এবার তাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর রাজনৈতিক স্যাটায়ার ‘৮৪০’ ছবিতে অভিনয়ের পরই যেন তার জীবনে বদলে গেল অনেক কিছু।
এক সময়ের চেনা সহকর্মীরা এখন তাকে এড়িয়ে চলছেন, কাজ হারিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। কারণ? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা বলে যেন অজান্তেই একশ্রেণির রোষানলে পড়ে গেছেন তিনি। তার মতে, সত্য বলাই হয়েছে তার ‘অপরাধ’। কিন্তু জয় ছিলেন, আছেন, থাকবেন অকপট। সত্যের কাছে আপস করা তার স্বভাব নয়, বরং দরকার হলে সবার সামনে ক্ষমা চাইতেও তার দ্বিধা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয় লিখেছেন, “আমি প্রথম বলেছিলাম- অধিকাংশ শিল্পীদের ছাত্র সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি চেয়েছি। ভুল কম বেশি সবাই করেছি, কিন্তু আপনারা কয়েকজন একদম থামলেনই না। কোনো শিল্পী বিপদে না পড়ুক—এ কামনা রইল।”
এ এক অন্য রকম জয়। যিনি ক্যামেরার সামনে যেমন সাহসী, তেমনি ক্যামেরার বাইরেও। এই সাহসের জন্যই হয়তো তাকে এত ভালোবাসে দর্শক, আবার কিছু মহল তাকে নিয়ে সমালোচনার বন্যাও বইয়ে দেয়। কিন্তু এসব জয়কে টলাতে পারেনি।
ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ছোটপর্দার নাটকে। ধাপে ধাপে তিনি জায়গা করে নেন বড়পর্দায়। ‘জীবনের গল্প’ দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রথম পা রাখেন, এরপর একে একে ‘এই যে দুনিয়া’, ‘গ্রাম-গঞ্জের পিরীত’, ‘পাষাণের প্রেম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন। অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এলেন নির্মাণেও। তার পরিচালিত ‘প্রার্থনা’ সিনেমাটি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।
তবে যত চরিত্রই তিনি রূপায়ণ করুন না কেন, বাস্তব জীবনে তিনি একজনই—শাহরিয়ার নাজিম জয়। স্পষ্টভাষী, নির্ভীক এবং সবসময় নিজের বিশ্বাসের জায়গায় অটল। তিনি জানেন, এই পথ মসৃণ নয়। কিন্তু লড়াই থামানোর মানুষ তিনি নন। শিল্পীজীবনের নানা রং দেখেছেন, তবে জীবনের বাস্তব রংকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সেখানেই তার জয়।