রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
আগে গ্রামীণ সমাজে শিশুদের গোসলের আগে রোদে শুইয়ে মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত যত্ন নিয়ে তেল মালিশ করার অভ্যাস ছিল দাদি-নানিদের। এই প্রথাটি কি আদৌ কার্যকর?
তেল মালিশ একদিকে যেমন শিশুদের আরাম দেয়, তেমনই এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি শিশুর কোমল ও সংবেদনশীল ত্বককে সুরক্ষিত করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
শিশুর শরীরে নিয়মিত তেল মালিশ মা ও সন্তানের মধ্যকার বন্ধন আরও গভীর করে। মালিশের সময় শিশু তার মা বা অভিভাবকের দিকে তাকায়, চোখে চোখ রেখে ভাব বিনিময় করে। এতে শিশুর পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দক্ষতা বাড়ে।
এছাড়াও তেল মালিশ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে। গবেষণা বলছে, তেল মালিশ স্ট্রেস হরমোন বা করটিসলের মাত্রা কমায় এবং সুখানুভূতিজনক হরমোন সেরোটোনিন ও ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে শিশু সহজে ঘুমায়।
যেসব শিশু কোলিক সমস্যায় ভোগে, তাদের জন্য মালিশ বিশেষভাবে উপকারী। তেল মালিশের সঠিক পদ্ধতি পেটের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক নিয়মে তেল মালিশ করলে শিশুর হাড় ও পেশি মজবুত হয়। এর পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনও উন্নত হয়।
সব তেল শিশুদের ত্বকে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এমনকি কোনো তেল প্রাকৃতিক হলেও তা শিশুর জন্য উপযুক্ত হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শিশুদের জন্য হালকা, অ-স্টিকি এবং ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করা উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, সদ্যোজাত শিশুদের তেল মালিশে শর্ষের তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ শর্ষের তেলের ঝাঁজ শিশুদের নাকে ঢুকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
শর্ষের তেলের পরিবর্তে নারকেল তেল শিশুদের জন্য আদর্শ হতে পারে। অনেক মা বাজারে পাওয়া শিশু-উপযোগী তেল অথবা অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন। তবে যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, শিশুর ত্বকে কোনো র্যাশ বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।
কিছু চিকিৎসকের মতে, শিশুর এক মাস বয়স হওয়ার পর তেল মালিশ শুরু করা নিরাপদ। তবে কেউ কেউ দেড় মাস বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।
ডা. ফারাহ দোলা, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিশুদের ত্বকের যত্নে এই বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন।