বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
নতুন ভ্যারিয়েন্টে মৃত্যু, আইসিইউ-টিকায় চট্টগ্রাম পুরোপুরি অপ্রস্তুত!
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফজিলাতুন্নেছা নামের এক নারী মারা গেছেন। শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির পর চট্টগ্রাম নগরীতে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা এপিক হেলথ কেয়ার, শেভরন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৬২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, দিনে গড়ে দু-তিনজন শনাক্ত হলেও প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। তারা মনে করছেন, সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষা চালু না হলে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হবে।
এদিকে বুধবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের পর সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশনের মেনন-২ হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেন। তবে বাস্তবতা হলো, দুটি হাসপাতালই এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ১৮টি আইসিইউ বেড, কিন্তু কেবল একটি শয্যার ভেন্টিলেটর সচল। বর্তমানে আটটি শয্যায় রোগী ভর্তি, তবে একমাত্র সচল ভেন্টিলেটরও মাঝে মধ্যে বিকল হয়। অন্য শয্যাগুলোর সঙ্গে কেবল অক্সিজেন সংযোগ রয়েছে, যা জীবন রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়। হাসপাতালে জনবল সংকটও চরম পর্যায়ে, যেখানে ১৭৭ জন চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে কর্মরত মাত্র ৪২ জন।
২০২০ সালে করোনা ইউনিটের জন্য যে ২২ জন চিকিৎসক সংযুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে ১৯ ফেব্রুয়ারি বদলি করা হয়। এরপর নতুন কেউ যোগ দেয়নি।
মেনন-২ হাসপাতালের পরিস্থিতিও একই। সেখানে নেই কোনো আইসিইউ শয্যা। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ২০টি বেড। পাশাপাশি টিকা আসলে বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের তা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকরাম হোসেন জানান, আইসিইউ বেডগুলো মেরামতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মেনন-২ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার প্রস্তুতি চলছে। র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর চেষ্টা হচ্ছে এবং টিকার চাহিদাও পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রব বলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তে ভিন্নধরনের কিট প্রয়োজন। না হলে শনাক্তকরণ সম্ভব হবে না।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম জানান, মারা যাওয়া নারী বাকলিয়ার বাসিন্দা এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয়। সরকারি কিট সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় নতুন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।