বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
দিনে ১০ বার প্রস্রাব? জানেন কি এর মানে কী?
অনলাইন ডেস্ক
চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রস্রাব বা ইউরিন হচ্ছে শরীরের তরল বর্জ্য যা কিডনি দ্বারা ফিল্টার হয়ে মূত্রাশয়ের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। এটি আমাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার একটি প্রাকৃতিক অংশ, যা শরীরের সুস্থতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানান দেয়।
প্রস্রাব একটি স্বাভাবিক দৈনন্দিন প্রক্রিয়া হলেও, পরিমাণ বা ঘনত্বে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে সেটি হতে পারে কিডনি কিংবা মূত্রনালির সমস্যার লক্ষণ। কতবার প্রস্রাব হলে তা স্বাভাবিক ধরা হয়? আর কখন এটি চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে? ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর গবেষণা অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সাধারণত দিনে ৬ থেকে ৭ বার প্রস্রাব করেন, যদিও ৪ থেকে ১০ বার পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়। এটি নির্ভর করে শরীরে পানি গ্রহণের পরিমাণের ওপর।
তবে দিনে ১০ বারের বেশি প্রস্রাব হলে, কিংবা প্রতি ৩০ মিনিটে বেগ অনুভব হলে, সেটি হতে পারে মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। আবার, দিনে মাত্র ৪–৫ বার প্রস্রাব হওয়া, বা প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা অনুভব করাও হতে পারে সংকেত।
স্বাভাবিকভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের মূত্রাশয়ে ২০০ মিলিলিটার প্রস্রাব জমলেই প্রস্রাবের বেগ আসে। মূত্রাশয় সর্বোচ্চ ৩৫০–৫৫০ মিলি পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে শ্রোণিতলের (পেলভিক ফ্লোর) পেশি দুর্বল হয়ে যায়। তখন হাঁচি-কাশি বা হাসির সময় প্রস্রাব নির্গমনের ঘটনা ঘটতে পারে।
এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি ইউরিনারি ইনকনটিনেন্সের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার পানি খাওয়াকে উপকারী মনে করা হয়। তবে যাদের কিডনি বা হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য পরিমাণ আলাদা হতে পারে। অতিরিক্ত পানি, ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল সেবনে বারবার প্রস্রাব হওয়াকে ‘পলিইউরিয়া’ বলা হয়।
রাত জেগে কাজ করার সময় চা-কফির আধিক্যে অনেকেই অনবরত প্রস্রাবের সমস্যায় পড়েন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, রাতে একবার বা সর্বোচ্চ দুবার প্রস্রাবের বেগ স্বাভাবিক। কিন্তু ঘন ঘন বেগ আসা ‘নকচুরিয়া’ নামে পরিচিত। এটি একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগের ইঙ্গিত দেয়।
১. অ্যান্টি-সাইকিয়াট্রিক বা কিডনির ওষুধ সেবনকারীরা
২. চল্লিশোর্ধ্ব ও প্রবীণ মানুষ
৩. গর্ভবতী ও রজোনিবৃত্ত নারীরা
৪. হৃদরোগ, প্রোস্টেট সমস্যা ও কিডনিতে পাথর থাকা রোগীরা
৫. ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগীরা
৬. যাদের কর্টিসল হরমোন বেশি
৭. স্নায়বিক রোগ বা মূত্রাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্তরা
সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। মদ্যপান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম বা সাঁতারের মতো শারীরিক অনুশীলন পেলভিক পেশিকে শক্তিশালী করে তোলে। এতে মূত্রাশয়ের কার্যকারিতা উন্নত হয়।