রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
পোষ্য প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়ে জলাতঙ্কের ভয়? সতর্কতা ও করণীয় জানুন
অনলাইন ডেস্ক
জীবনের নানা মুহূর্তে ঘরের প্রাণী হিসেবে বিড়াল বা বাড়ির আশপাশের কুকুর অনেকের সঙ্গী। বিশেষ করে ছোট্ট শিশুরা তাদের সঙ্গে খেলা করে, আদর করে। তবে কখনো কখনো প্রাণীগুলো আমাদের আঁচড় বা কামড় দিতে পারে, যা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগায়—এতে কি জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে? এই ভয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। আসুন, এ নিয়ে বিস্তারিত জানি এবং কী করণীয় তা বুঝি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অণুজীববিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার বলেছেন, “বিড়াল-কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। শুধুমাত্র তখনই ঝুঁকি থাকে, যখন প্রাণীটি জলাতঙ্কের জীবাণু বহন করে।” অর্থাৎ, যদি আপনার পোষ্যকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া থাকে, তবে সেই আঁচড় বা কামড় থেকে জলাতঙ্ক হওয়ার ভয় থাকে না।
তবে, প্রাণী যদি টিকা ছাড়া হয়, তাহলে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ত্বকে যদি কামড় বা আঁচড় পড়ে, প্রথমেই সাবান পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ভালো করে ক্ষতটি পরিষ্কার করতে হবে। এরপর আয়োডিন দ্রবণ দিয়ে সংক্রমণ রোধ করতে হবে। ক্ষতটির উপর কোনো ব্যান্ডেজ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ক্ষতটি যদি কেবল নখ বা দাঁতের সংস্পর্শে আসে, কিন্তু ত্বক ঠিক থাকে, তখন অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে ত্বক যদি ফেটে যায় বা রক্তপাত হয়, তখন দ্রুত টিকা নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালে বা ক্লিনিকে এই টিকা পাওয়া যায়, যা তিন ডোজে দিতে হয়। এই ডোজ ছাড়াও প্রথম দিনে ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা শরীরকে জলাতঙ্কের জীবাণুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কামড় বা আঁচড় ছাড়াও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়া জরুরি। যেমন, রাস্তার কোনো বিড়াল বা কুকুরকে খাবার দেওয়ার সময় যদি সে আপনার হাত বা পা চেটে দেয় এবং আপনার ত্বকে আগেই কোনো ক্ষত থাকে, তাহলে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় ক্ষত পরিষ্কার করে দ্রুত টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, যদি ত্বক অক্ষত থাকে, তবে কিছু করার প্রয়োজন নেই, কেবল হাত-পা ধুয়ে নিলে হবে।
জলাতঙ্ক থেকে বাঁচতে এলাকার সব কুকুরকে নিয়মিত টিকা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের বন্ধ্যত্বের ব্যবস্থা করাও ভালো। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণী চিকিৎসকের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যদি সবাই মিলে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়, তবে অনেক বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
অতীতে আমরা অনেক সময় দেখেছি, মানুষের অবজ্ঞা ও নির্যাতনের কারণেই প্রাণীরা উত্তেজিত হয়ে কামড়ায়। তাই প্রাণীদের প্রতি সদয় হোন, তাদের বিরক্ত করবেন না, তাড়াবেন না। বিশেষ করে শিশুদেরকে শিখিয়ে দিন প্রাণীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়। খাবার দিয়ে, আদর করে, বন্ধুত্ব করে রাখলে তারা সহজেই মানুষের সঙ্গী হয়ে যাবে এবং কামড়ানোর ঝুঁকি কমে যাবে।
স্মরণীয়, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ। কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন করলে এটি রোধ করা সম্ভব। প্রাণীদের ভালোবাসুন, তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হোন এবং প্রয়োজনীয় টিকা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করুন।
এই তথ্যগুলো মেনে চললে আপনার পরিবার নিরাপদ থাকবে এবং জলাতঙ্কের ভয় কাটিয়ে আপনি প্রাণীদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।
সারাংশ:
বিড়াল-কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে প্রাণী যদি টিকা না থাকে তবে সাবধানতা জরুরি। ক্ষত পরিষ্কার করে দ্রুত টিকা নিতে হবে। প্রাণীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করুন, প্রয়োজনীয় টিকা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করুন।