বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
নেইমার ফিরলেন, ইতিহাসও লিখলেন ভিলা বেলমিরোর মঞ্চে!
অনলাইন ডেস্ক
ভিলা বেলমিরোতে একটিই নাম, একটিই রঙ—নেইমার জুনিয়র। ফিরেছেন নিজের শৈশবের ক্লাবে, আর প্রথম ম্যাচেই দেখালেন, বিশ্বজুড়ে কেন এখনো তার নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা আর বিস্ময়ে। শীর্ষে থাকা ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে সান্তোসকে টেনে তুললেন অবনমন অঞ্চলের অন্ধকার থেকে—একাই।
এদিকে ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসিকে হারিয়ে ছন্দে থাকা ফ্ল্যামেঙ্গো যখন মাঠে নামে, তখন অনেকেই ভাবছিলেন, সান্তোস হয়তো এবারও ধরাশায়ী। কিন্তু ভিন্ন কিছু ঘটল। মাঠে যেন রাজত্ব করলেন নেইমার। বল পায়ে যেন ঘূর্ণিঝড়—প্রতিপক্ষের রক্ষণ তার ড্রিবলিংয়ে বারবার বিভ্রান্ত। আর নেতৃত্বের ভার যেন তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।
একটা মুহূর্ত ছিল যেটা ম্যাচের চেয়েও বেশি আলোড়ন তুলেছে—ফ্ল্যামেঙ্গোর কোচ ফিলিপে লুইসকে ‘নাটমেগ’ করে বসেন নেইমার! প্রাক্তন জাতীয় দল সতীর্থ, তাই গোলমাল নয়—তারপরই হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন দুজনে, যেন দুই কিংবদন্তির দেখা হয়ে গেল অন্য এক লড়াইয়ের মাঝে।
অবশেষে ৮৫ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত। বক্সের মধ্যে চমৎকার এক জায়গায় বল পান নেইমার। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডান পায়ের চমৎকার শটে বল পাঠান জালে। গোলকিপার আগুস্তিন রোসি তাকিয়ে থাকেন নির্বাক। আর গ্যালারিতে যেন বিস্ফোরণ, যেন যুগের শ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলো সবাই।
এই এক গোলেই বদলে যায় সব হিসাব। সান্তোসের সংগ্রহ এখন ১৪ পয়েন্ট, অবনমন অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসা নিশ্চিত। আর মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে কোপা সুদামেরিকানার কোয়ালিফায়ার! আর ফ্ল্যামেঙ্গোর শীর্ষস্থান? সেটি এখন অনিশ্চিত—সমান পয়েন্টে থাকা ক্রুজেইরো এখনো খেলেনি, প্রতিপক্ষ মারাকানায় দুর্ধর্ষ ফ্লুমিনেন্স।
নেইমারের এই ফেরাটা শুধু রোমান্টিক রূপকথা নয়, বরং কৌশলগত এক বার্তা—তিনি এখনো পারফরম্যান্স দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারেন। যারা বলেছিলেন, বয়স আর চোটের কারণে তাকে টপ লেভেলে আর দেখা যাবে না, তাদের জন্য ছিল এটা এক নিখুঁত জবাব।
এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—এই নেইমার কি শুধু সান্তোসকে রক্ষাই করবেন, নাকি নতুন কোনো গৌরবগাঁথা লিখবেন? সময়ই দেবে উত্তর।