মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, শহীদ আবরার ফাহাদ শুধু এক শিক্ষার্থী নন—তিনি আজ বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। আধিপত্য ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ আমাদের স্বাধীন চেতনার অনুপ্রেরণা। এই কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি হাসিনা ও তার সহযোগী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের গোরস্তানে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ আবরারের প্রতিবাদ থেকেই দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে গণজাগরণের ঢেউ উঠেছিল। গত ১৬ বছরের দমন-পীড়নের রাজনীতিতে ছাত্রলীগ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস কায়েম করে শিক্ষার্থীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। যে কেউ আধিপত্য বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তার রক্ত ঝরানো হতো। বাংলাদেশ তখন কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত হয়েছিল, যেখানে দিল্লির ইচ্ছাই ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আবরার যে সাহসিকতার পথ দেখিয়েছিলেন, সেটির ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের জন্ম হয়েছে। আবরারের রক্তে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই স্বপ্ন ধারণ করেছে জুলাইয়ের শহীদ ও গাজীরা।
ভিপি সাদিক বলেন, আমরা বহুদিন ধরে অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন আর সাংস্কৃতিক দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি ছিলাম। এই পরিস্থিতিতে আবরার দাঁড়িয়ে প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়েছিলেন। আজ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি ঘোষণা দেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে আগামী ৭ অক্টোবরকে ‘আগ্রাসনবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। আমাদের শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি। তা না হলে খুনি হাসিনা কিংবা অতীতের সব ফ্যাসিবাদী শক্তির মতোই ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে যারা সেই স্বপ্ন ভঙ্গ করবে তাদের জন্য।
এর আগে বাংলাদেশ-ভারত অসম চুক্তি ও পানি আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেওয়া স্ট্যাটাসের পর ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক। এ সময় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।