শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
বয়স ২০ বছর হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে মাসিকের পর নিজের স্তন পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, বয়স ৪০ পেরোলেই বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত বলে মত দিয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) স্তন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. উম্মে হুমাইরা কানিতা।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) স্তন ক্যানসার সচেতনতা বিষয়ক একটি সেমিনারে তিনি এ মতামত দেন। আমরা নারী, আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উদ্যোগে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে ড. উম্মে হুমাইরা কানিতা স্তন ক্যানসার সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি স্তন স্ব-পরীক্ষার গুরুত্ব, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি স্তন ক্যানসারের লক্ষণ ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কেও আলোচনা করেন। এ রোগে নারীর মৃত্যুর হার কমাতে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে মৃত্যুর শীর্ষ কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে প্রায় সাত হাজার ৫০০ জন প্রতি বছর মারা যান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারে মৃতদের ৯৮ শতাংশই নারী। এজন্য ড. হুমাইরা ২০ বছর বয়স থেকেই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। স্তন ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, স্তন বা বগলে পিণ্ডের উপস্থিতি দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, স্তনের ত্বকে ফোলাভাব, ব্যথা বা ফুসকুড়ির মতো সমস্যাও হতে পারে। স্তনের আকার পরিবর্তন, লালচে ভাব, কিংবা স্তনবৃন্ত থেকে স্রাব দেখা দিতে পারে। এমনকি স্তনে চুলকানি, ত্বকের কুঁচকানো বা রঙ পরিবর্তনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্তন ক্যানসার শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও হতে পারে। যদিও নারীদের ঝুঁকি বেশি, তবে পুরুষদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। অনেক নারী-পুরুষ স্তন ক্যানসার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করায় রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ড. হুমাইরা বলেন, জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। ধূমপান ও মদপান এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো উচিত। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা যাবে না এবং প্রতিদিন শরীরচর্চা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।