মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
দেশে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার জন্য নিরাপদ পরিবেশের অভাব এবং নাট্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের নেতারা। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছেন এবং ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায়, সারা দেশের নাট্যকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ।
শনিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের নেতারা এসব বক্তব্য দেন। তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশ্ন করেন: নাট্যকর্মীরা কী অপরাধ করেছে? হামলাকারীরা কারা? তাদের উদ্দেশ্য কী? এ দেশে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা নিরাপদে করা সম্ভব কি?
এর আগে, গত ২ নভেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী চলাকালে কিছু লোকের বিক্ষোভের কারণে নাটকটি মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার প্রতিবাদে গত শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে নাট্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা নাট্যকর্মী, আমাদের পরিচয় স্পষ্ট। তবে নাটক বন্ধ করতে আসা লোকগুলো কারা, তা জানতে চাই। সন্ত্রাসী আচরণের বিচার চাই। রাষ্ট্রের ভূমিকা হলো শিল্পচর্চার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, বাংলা একাডেমিতে নাটক করা যাবে না, কিন্তু ঘটনা ঘটেছে শিল্পকলা একাডেমিতে। তাদের উদ্দেশ্য এবং পরিচয় নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাদের বিচার করা এবং মদদদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তদন্তের ফলাফল না পাওয়া গেলে, সারা দেশের নাট্যকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের সময় একাডেমির বাইরে কিছু যুবক মিছিল ও স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন— মহিউদ্দিন হৃদয় (৩৮) ও রাসেল (৪২)। পুলিশ ঘটনাস্থলে তাদের আটক করে রমনা থানায় নিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী, খন্দকার শাহ আলম, তপন হাফিজ, ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের নির্দেশক ও নাট্যকার মাসুম রেজাসহ ফেডারেশনের অন্যান্য নেতারা।