রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
বলিউড মালিক পরিবারের গোপন দ্বন্দ্ব এখন সবার সামনে।
অনলাইন ডেস্ক
সঙ্গীত পরিচালনার বিশ্বে সর্দার মালিকের দুই পুত্র—আনু মালিক ও ডাবু মালিক—এক পরিবারের সন্তান হলেও তাদের মধ্যে বহু বছর ধরে পেশাগত ও পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন ছড়িয়ে ছিল বলিউডে। এবার সেই গুঞ্জন আরও জোরদার করলেন ডাবু মালিকের ছেলে, সঙ্গীতশিল্পী আমাল মালিক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি আনু মালিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। দাবি করেছেন, আনু মালিক তার বাবার কাজ ছিনিয়ে নিয়েছেন, যার কারণে ডাবু মালিক গভীর হতাশায় ভুগেছেন।
সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে আলাপকালে আমাল জানান, “আনু মালিক সবসময়ই আমার বাবার সঙ্গে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকতেন। নিজের মধ্যেই সেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন। আর এ কারণেই আমার বাবার ক্যারিয়ার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যখনই বাবা কোনো সিনেমার কাজ পেতেন, আনু মালিক কম টাকায় বা বিনামূল্যে কাজ করার প্রলোভনে প্রযোজকদের সঙ্গে চুক্তি করে সেই কাজ ছিনিয়ে নিতেন।”
এই অভিযোগের পাশাপাশি আমাল সাজিদ-ওয়াজিদের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, “শুধু আনু মালিকই নয়, সাজিদ-ওয়াজিদও বাবাকে প্রতারিত করেছেন। বাবা ছিলেন অত্যন্ত সরল প্রকৃতির মানুষ, তাই এ ধরনের কৌশলের মোকাবিলা করতে পারেননি।”
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ‘মার্ডার’ ছবির সময়। আমালের অভিযোগ, মহেশ ভাটের ছবির কাজের জন্য ডাবু মালিক যখন চুক্তির পথে ছিলেন, ঠিক তখনই আনু মালিক সেই সুযোগ হাতিয়ে নেন। একের পর এক এমন আঘাত ডাবুকে মাত্র ৩২ বছর বয়সে মানসিক সংকটে ফেলেছিল।
আমাল বলেন, “আমি তখন ছোট ছিলাম, কিন্তু এসব ঘটনা আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। আমি ১৬ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছি, একটাই উদ্দেশ্য—সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজের পরিবারের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা। আমার বাবা প্রায় ৭০টি ছবিতে কাজ করেছেন, কিন্তু তাঁকে কেউ ‘আনু মালিকের ভাই’ ছাড়া অন্য কোনো পরিচয়ে চিনতো না। আমি চেয়েছি সেই ‘স্ট্রাগলিং’ লেবেল মুছে দিতে।”
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে আমাল স্পষ্ট করে বলেন—“আমি চাই মানুষ আনু মালিককে দেখে বলুক—‘ওই যে, আমাল আর আরমানের কাকু।’ যেন আমার বাবাকে কেবল ‘আনু মালিকের ভাই’ হিসেবে না ডাকা হয়।”
এই সাক্ষাৎকারের পর থেকে মালিক পরিবার নিয়ে বলিউডে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, যেখানে রক্তের সম্পর্কও পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছায়ায় ডুবে গেছে বলেই মনে হচ্ছে।
গণমাধ্যম এই তথ্য উন্মোচন করায় আবারো মালিক পরিবার বিষয়ক গুঞ্জন তীব্র হয়েছে।