শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
“ভাইরাল অডিওতেই ফাঁস খুলনার ছাত্রনেতাদের আসল রূপ!”
অনলাইন ডেস্ক
খুলনায় একটি মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের পরিচয় দেন খুলনা মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে। অভিযুক্তরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম তানভীর ও সাজ্জাদুল ইসলাম আজাদ।
রবিবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি অডিও রেকর্ডিং, যেখানে মন্টু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মালিক মন্টুর কাছে চাঁদা দাবি করতে শোনা যায়। কলটির দৈর্ঘ্য ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড এবং এতে কথোপকথনের ভেতর উঠে আসে চাঁদার অঙ্ক এবং ভয়ভীতির ভাষা।
জানা যায়, তানভীর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের অনার্সের শিক্ষার্থী এবং আজাদ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সে পড়ছেন। তারা নিজ নিজ পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। খুলনার ‘জুলাই আন্দোলন’ এবং নানা ছাত্র সংগঠনে তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অডিও রেকর্ডে আজাদকে বলতে শোনা যায়, ‘১০ টাকা দেন, তাহলে কেউ চোখ তুলে তাকাবে না।’ নেটিজেনদের মতে, এখানে ‘১০ টাকা’ মানে ১০ লাখ টাকা। আয়োজক মন্টুর প্রস্তাব ছিল—‘দুই টাকা’ (দুই লাখ)। জবাবে আজাদ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারও ঠান্ডা করতে পারবে না, বলে দিয়েন তারে।’
ঘটনার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ইশরিয়াক কবির বলেন, ‘চাঁদাবাজির মতো অপরাধে শিক্ষার্থীদের নাম জড়ানো লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক বলার পরও তারা রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে নিজেদের প্রভাব খাটাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজাদ নিজেকে জুলাই আন্দোলনের কান্ডারি দাবি করলেও শিক্ষার্থীরা তার ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভাইরাল অডিওতে তাদের মুখোশ খুলে গেছে। চেতনার নামে গাদ্দারি করে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
মন্টু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেকর্ডিংয়ে আমার এবং সাজ্জাদের কণ্ঠই রয়েছে। সব কথাই সত্য। তারা চাঁদা দাবি করেছে এবং নিয়েছেও।’
অন্যদিকে, একাধিকবার ফোন করেও আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জহুরুল তানভীর জানান, ‘এটা আগের ঘটনা। তদন্ত করে সব জানা যাবে। পুলিশের কমিশনারকে সরানোর যে আন্দোলন চলছে, সেটিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে কেউ হয়তো বিষয়টি সামনে এনেছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইনামুল হাসান বলেন, ‘আমরা আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য কমিটি গঠন করেছি। চাঁদাবাজি প্রমাণ হলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্ল্যাটফর্মকে কলঙ্কিত হতে দেব না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। ফিরে এসে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নেব।’