শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
যুদ্ধ ছিল রাস্তায়, আর শান্তির শুরু মনের ভেতর!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মৃত্যুঞ্জয়ী যোদ্ধাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নির্বাণ: মেন্টাল ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড হোলিস্টিক সাপোর্ট ইকোসিস্টেম ফর দ্য হিরোজ অব জুলাই ২০২৪ আপরাইজিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২১ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের কনফারেন্স রুমে ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্পি), কগনিটিভলি ইয়োরস এবং গ্রো-এর সহযোগিতায় এই আয়োজন করে সফরন ফাউন্ডেশন—খবর গণমাধ্যমের।
কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আহত ও গ্রেপ্তার যোদ্ধাদের মানসিক ট্রমার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। তা থেকে মুক্তি পেতে ঘুম, সুষম খাদ্য, শরীরচর্চা, সামাজিক যোগাযোগ ও পেশাদার সহায়তার বিকল্প নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আহম্মদ নাইম বলেন, “এই কর্মশালায় এসে বুঝেছি—আমার একার না, অনেকেই ভেতরে মানসিকভাবে লড়ছে। কেউ অনুভব বোঝার চেষ্টা করছে—এটাই বড় শক্তি।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার রায়হানা শারমিন বলেন, “নিজের আবেগ বুঝে তা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হয়। অনেক সময় ট্রমার পর আমরা দুঃখ, রাগ, ভয় চেপে রাখি, যা ভবিষ্যতে ভয়ংকর মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনে।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ও কেন্দুয়ার ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, “গ্রাউন্ডিং টেকনিক ট্রমার পুনরুদ্ধারে বেশ কার্যকর। দম নেয়া, নিজের অনুভূতিকে ছুঁয়ে দেখা বা লিখে ফেলা—সবই সহায়তা করে মানসিক ভার লাঘবে।”
কর্মশালায় অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, “মনের শক্তি হারালে কেবল ব্যক্তি নয়, প্রজন্মও বিপন্ন হয়। তুমি যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে, ‘জুলাই বিপ্লব’-এর নেতৃত্ব দিতেই পারতে না। আজ ৭০ লাখ মাদকাসক্ত, যার ৭০ শতাংশই শিক্ষার্থী—এটা জাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।”
এই আয়োজনে অংশ নেন মৃত্যুঞ্জয়ী যোদ্ধা, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।