শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
তোমার নাম, বিভাগ, বর্ষ জানে প্রতারকচক্র!
অনলাইন ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাধিক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শিকার হয়ে পৌঁছে গেছে অনলাইন প্রতারকদের হাতে—এমনই ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। জানা গেছে, এক সংঘবদ্ধ চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম, বিভাগ ও বর্ষ সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য ব্যবহার করে ‘মেধা বৃত্তি’র লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছে। তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহ করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এই ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী। প্রতারকচক্র প্রথমে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে, এরপর ‘বৃত্তির টাকা পেতে’ ওটিপি পাঠিয়ে তা জানাতে অনুরোধ করে। শিক্ষার্থীরা তা জানানো মাত্রই তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে হানা দিয়ে অর্থ তুলে নেয় প্রতারকরা।
ভুক্তভোগীদের একজন, ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী জানান, “এক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তারা আমার নাম, বিভাগ, বর্ষ সব বলে। এরপর বলে আমি মেধা বৃত্তি পেয়েছি, টাকা পেতে অ্যাকাউন্ট নম্বর লাগবে। আমি নির্দ্বিধায় নম্বর দিলে কিছুক্ষণ পর দেখি আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ছয় হাজার টাকা গায়েব।”
একইভাবে প্রতারণার মুখোমুখি হন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হাকিম আকাশ। তিনি বলেন, “একজন অপরিচিত কলার পরিচয় নিশ্চিত করে জানায়, আমার ইসলামি ব্যাংকে জমা দেওয়া বৃত্তির আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় কোনো তথ্য দিইনি। পরে দেখি এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছে, একই কায়দায় তার চার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওরা।”
ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনলাইন ফর্ম, বৃত্তির আবেদন বা অভ্যন্তরীণ সার্ভার থেকেই হয়তো এসব তথ্য পাচার হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য ফাঁসের উৎস চিহ্নিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি এখনও বিষয়টি জানি না, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিছু দুর্বৃত্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য নিয়ে প্রতারণা করছে। আমরা খতিয়ে দেখব—বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য চুরি হয়েছে কি না। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই আরও সচেতন হতে হবে।”