বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
চোখে চোখ পড়তেই শুরু প্রেম, কিন্তু সহকর্মীর প্রেমে ঝুঁকিও কম নয়
অনলাইন ডেস্ক
সহকর্মীর চোখে ‘সর্বনাশ’ দেখে ফেলার গল্পটা আজকাল খুব একটা বিরল নয়। সেই চৈত্রের দুপুরে কিংবা অফিসের করিডোরে, হঠাৎ দেখা কোনো সহকর্মীর চোখে এমন কিছু থাকে, যা মন কেড়ে নেয়। মনে হয়—“লাগবে, তাকে আমার লাগবে!” কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাটানো, একসঙ্গে কাজ করার অভ্যাস, আর একে অপরকে জানার সুযোগ—এসব মিলে তৈরি হয় একধরনের টান, যেটা অনেক সময়ই গড়িয়ে যায় ‘ভালোলাগা’ থেকে ‘ভালোবাসা’র দিকে।
সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে যেমন রয়েছে রোমাঞ্চ, তেমনি আছে কিছু জটিলতা। তাই এমন সম্পর্কে জড়ানোর আগে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
যত গোপন, তত মজবুত—এ কথা প্রেমের ক্ষেত্রেও খাটে। তাই সম্পর্কের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহির না করে, ব্যক্তিগত রাখাই শ্রেয়। কারণ, সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেটি অফিসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সহকর্মীদের ফিসফাস, গুজব, এমনকি অপমানের মুখে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এমনভাবে চলাফেরা ও আচরণ করতে হবে, যাতে পেশাদারিত্ব বজায় থাকে এবং সম্পর্কের বিষয়টি অপ্রকাশ্য থাকে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি ও চাকরিবিধি থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকে, বিশেষ করে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়ানোর জন্য। এমনকি সম্পর্কের কারণে কেউ পদোন্নতি বা সুবিধা পেলে তা অন্যদের দৃষ্টিতে পক্ষপাতমূলক মনে হতে পারে। তাই সম্পর্ক শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা জেনে নেওয়া আবশ্যক। যদি নিষেধাজ্ঞা থাকে, তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে একপক্ষকে চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
সম্পর্ক ভেঙে গেলে যেন পেশাদার পরিবেশে তার প্রভাব না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অপমানজনক আচরণ কিংবা অফিসে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সংযত আচরণ বজায় রাখা জরুরি।
যদি সম্পর্ক গড়ায় বিয়ের দিকে, তবে অফিসে সহকর্মী ও বসদের জানানো উচিত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, সঠিক সময়ে। বিয়ের কার্ড ধরিয়ে সবাইকে জানালে তাঁরা বিস্মিত হতে পারেন। বরং বিয়ের কিছুদিন আগে বুঝেশুনে সম্পর্কের কথা জানানোর পর দাওয়াত দেওয়া ভালো। এতে তাঁদের সম্মানও থাকে, সম্পর্কও পায় সামাজিক স্বীকৃতি।
সহকর্মীর প্রেম যেমন রোমান্সে ভরা, তেমনি সেটি একটি পেশাদার পরিবেশেও সঠিকভাবে সামলে চলতে হয়—তবেই সে প্রেম টিকে থাকে দীর্ঘদিন।