শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
মামুন মোল্লা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি
কুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে দুপুর ১টায় এক তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক সমিতির নেতারা একসুরে জানিয়েছেন—দোষ প্রমাণ ছাড়াই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কোনো চাপ মেনে নেয়া হবে না! তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যথোপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে!
বক্তারা দাবি তোলেন, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিলে তার চরম পরিণতি হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর পরামর্শদাতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও শিক্ষকদের এড়িয়ে যাওয়ায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা। এ সময় বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেনসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক।
তারা অভিযোগ করেন, কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী ভিসির উপর হামলা চালিয়ে ধুতু নিক্ষেপ করে, কয়েকজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করা হয়। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
অধ্যাপক ড. আশরাফুল গণি ভূঁইয়া বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললেও শিক্ষকদের উপেক্ষা করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে গুটিকয়েক মিছিল করলেই ‘কুয়েট উত্তাল’ বলা সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গি হতাশাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “মহান জুলাই আন্দোলনের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশে মব কালচারের মাধ্যমে উপাচার্যের অপসারণ কাম্য নয়। এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।”
তিনি সরকারকে মব কালচারের প্রভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায়, শিক্ষক সমাজ ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।