শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
ভাঙচুরে তদন্ত নয়, প্রহসনের নির্দেশই দিলেন কমিটির সদস্য!
অনলাইন ডেস্ক
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছাত্রদল কর্মী শামীম আশরাফীর নেতৃত্বে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির (হাবিপ্রবিসাস) অফিসরুমে ভাঙচুরের ঘটনায় নাটকীয় মোড়! ঘটনাটির তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেও, সেই কমিটিরই এক সদস্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তকে বাঁচাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে মানববন্ধন করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি হাসান—এমন একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) সকালে হাবিপ্রবিসাসের অফিস ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা আসে। কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি জকির উদ্দিন আবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি হাসান এবং সাইদুল ইসলাম।
কিন্তু কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াতে থাকে। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, রাব্বি হাসান কারও কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন—‘একটা মানববন্ধন করাও ছেলেটার ব্যাচমেটগুলো দিয়ে। করতে পারলে খুব ভালো হবে।’ এই বার্তাটি সামনে আসতেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।
এ নিয়ে হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফাহিমুল্লাহ বলেন, “যখন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যই তদন্ত শুরুর আগেই বিভাজন তৈরি করতে বলেন এবং সাংবাদিক সমিতিকে বিতর্কিত করতে উদ্যোগ নেন, তখন এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটা স্পষ্টভাবে আইওয়াশ।” সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন বলেন, “প্রথমে আমরা এই তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তাদের লক্ষ্য সত্য উদঘাটন নয়, বরং অভিযুক্তকে রক্ষা করা। স্ক্রিনশটটি প্রকাশ্যে আসার পর কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আমাদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”
ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তদন্ত কমিটির সদস্য মো. রাব্বি হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এই তদন্ত আদৌ কি সুষ্ঠু হবে, নাকি এটি কেবল একটি সাজানো নাটকের অংশ? পরিস্থিতি ঘোলাটে হলেও, ছাত্ররাজনীতির স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রশ্নে এই ঘটনায় এক নজির গড়ে দেবে বলে মনে করছে।