শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
নিয়মহীনতায় ভর্তি? উপাচার্যের মেয়ের নিয়ে তোলপাড় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়!
অনলাইন ডেস্ক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর কন্যা। ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৪৬.২৫।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় পোষ্য কোটা নিয়ে সুস্পষ্ট আইন না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই উপাচার্যের মেয়ের ভর্তি নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তি হয়েছে নিয়ম মেনেই।
উপাচার্য দপ্তর থেকে সুপারিশ বা অফিস আদেশ এসেছে কি না, জানতে চাইলে ভর্তিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, “এ ধরনের কোনো নথি আমরা পাইনি।”
সিএসই বিভাগের প্রধান ড. মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকল নিয়ম মেনেই তাকে ভর্তি করা হয়েছে। ডিন অফিস থেকে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াগত নথি অনুযায়ী আমরা ভর্তির অনুমতি দিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. তানজিম খান বলেন, ‘পোষ্য কোটা সাধারণত স্থায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য। নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়।’
‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল পোষ্য কোটার বিষয়ে। তবে উপাচার্য বা বাইরের নিয়োগপ্রাপ্তরা এতে অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য একজন সরকারনিযুক্ত কর্মকর্তা। যেহেতু তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা ভোগ করছেন, তাই তার সন্তানকে পোষ্য কোটার আওতায় ধরা হয়েছে।’
তবে নির্দিষ্ট কোনো আইন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো লিখিত আইন নেই।’
রেজিস্ট্রার অফিস জানায়, এবার প্রতি বিভাগে মাত্র একটি পোষ্য কোটার আসন বরাদ্দ ছিল এবং উপাচার্যের মেয়ের ভর্তি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির অনুমোদনক্রমে হয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার মেয়ে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ভর্তি হয়েছে। মেধা ও নিয়মের বাইরে কিছুই হয়নি। আমি নিজেও এই বিষয়ে অবগত ছিলাম না।’