শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
ভোটের আগে সুপারিশেই কাঁপছে ডাকসু নির্বাচন কমিশন!
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে আলোচনায় এসেছে একগুচ্ছ সুপারিশ। সদ্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন নানা ছাত্রসংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে ব্যস্ত। অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। কারণ, সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা আর সাংবিধানিক বাধা।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৫১টি সুপারিশ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে এবং ২১টি কমিশনের আওতায় পড়ে। ইতোমধ্যে কমিশন এই তালিকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকা সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে—দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল ব্যালট ছাপানো, পরীক্ষা ও ক্লাসসূচি মাথায় রেখে তপশিল ঘোষণা, হুইলচেয়ার ব্যবস্থা রাখা, রিডিং রুমে প্রচারণা নিষিদ্ধ করা, পোস্টার ব্যবহার বন্ধ, ক্লাস চলাকালে মাইক ব্যবহার না করা, ছুটির দিনে ভোটগ্রহণ, শিক্ষকদের ভোটগ্রহণে যুক্ত করা ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশে যেসব সুপারিশ আছে, সেগুলো আরও স্পর্শকাতর। যেমন—২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার দেওয়া, আনসারদের সিভিল ড্রেসে দায়িত্ব পালন, ছাত্রলীগকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, ফেসবুক গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-১’ ও ‘২’-এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ, ‘ফ্যাসিস্ট’ শিক্ষক-প্রশাসকদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং গঠনতন্ত্র নিয়ে ঐকমত্য তৈরির জন্য সমন্বয় সভার আয়োজন ইত্যাদি।
এদিকে, কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, ছাত্রসংগঠন, বাসরুট কমিটি ও সিআরদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর স্পষ্ট হবে, কোন সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য, আর কোনটি নয়।
তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাব—২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক জট।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেয়েছি। কিছু সুপারিশ আমরা গ্রহণ করেছি যেমন—দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ব্রেইল ব্যালট। তবে কিছু বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেমন ২০১৮-১৯ সেশনের ভোটাধিকার। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও, আমরা তাদের অন্তর্ভুক্তির পথ খুঁজছি।”
সবকিছু ঠিকঠাক না হওয়া পর্যন্ত তপশিল ঘোষণার তারিখও অনিশ্চিত। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছাত্ররাজনীতির নতুন উত্তাপ অনুভূত হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন আদৌ সময়মতো হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে প্রশাসন ও কমিশনের সম্মিলিত অবস্থানের ওপর—যা সময়ই বলে দেবে।