মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
মালাইকার ওপর গ্রেপ্তারি ছায়া—২০১২ সালের রহস্য ফুঁসে উঠছে!
অনলাইন ডেস্ক
বলিউডের গ্ল্যামার ও আলোচিত লাইফস্টাইলের মাঝে এবার এক ভিন্নরকম বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী মালাইকা অরোরা। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের বাইরে থাকলেও নিজের ফিটনেস ও ফ্যাশনের জন্য আলোচনায় থাকা মালাইকা এবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন এক পুরনো মামলা ঘিরে, যেটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১২ সালের এক বিতর্কিত ঘটনার মধ্য দিয়ে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের এক আদালত মালাইকার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে—পরবর্তী শুনানিতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এর আগেও তাকে একাধিকবার আদালতে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিলের শুনানিতে তিনি নিজে না গিয়ে তার আইনজীবীকে পাঠান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের প্রধান বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট কে এস জানওয়ার বলেন, “অভিনেত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি প্রক্রিয়া এড়াচ্ছেন,” এবং এটিকে আদালতের অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
যে মামলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল ঘটনা ঘটে ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ের একটি বিলাসবহুল পাঁচতারকা হোটেলে। ওই রাতে সাইফ আলি খান তার স্ত্রী কারিনা কাপুর, অভিনেত্রী কারিশমা কাপুর ও মালাইকা অরোরাকে নিয়ে ডিনার করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই ঘটে বিস্ফোরক এক ঘটনা, যার কেন্দ্রে ছিলেন সাইফ এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ভারতীয় ব্যবসায়ী ইকবাল মীর শর্মা। দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি থেকে শুরু হয়ে তা গড়ায় মারামারিতে, এবং অভিযোগ রয়েছে—সাইফ ব্যবসায়ীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন, এমনকি তার নাকও ভেঙে দেন।
এই ঘটনার পর ইকবাল শর্মা সাইফ আলি খান ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মালাইকা অরোরা ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী, অর্থাৎ সাক্ষী হিসেবে তাকে একাধিকবার আদালতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক যুগ পরেও তিনি সেভাবে সাড়া দেননি। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলের প্রথম দিকে তাকে সমন জারি করা হয়, তখন আদালত সতর্ক করে বলেছিল, পরবর্তীবারেও অনুপস্থিত থাকলে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। কিন্তু এবার আদালতের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে, কারণ তারা এবার সরাসরি জামিন অযোগ্য পরোয়ানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যা বলিউডের একজন তারকার জন্য নিঃসন্দেহে বড় বিব্রতকর বিষয়।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ জুলাই ধার্য করা হয়েছে। এখন সকলের নজর মালাইকার দিকে—তিনি কি এবার হাজির হবেন, নাকি আরও একবার আদালতের আদেশ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন? বলিউডের অনেকেই বলছেন, এমন পরিস্থিতি তার ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষত যেহেতু এটি একটি গুরুতর অপরাধ মামলার সাক্ষীর দায়িত্বের অবহেলার অভিযোগ।
একদিকে বলিউড তারকাদের লাইমলাইট, অন্যদিকে বাস্তব জীবনের আইনি দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের মাঝে মালাইকার মতো একজন স্টাইল আইকনের এমন এক অবস্থায় পড়া বলিউডের রঙিন জগতের অন্ধকার দিকও তুলে ধরে। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার মোড় কোন দিকে যায়, আর মালাইকা নিজেকে কীভাবে রক্ষা করেন—তা এখন শুধু আইনি ব্যবস্থাই নয়, মিডিয়া ও ভক্তদের মধ্যেও গভীর কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।