মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শুল্কের ভারে কি ভেঙে পড়বে রফতানির মেরুদণ্ড?
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বৈঠকে উত্তাপ থাকলেও ফল মিলেনি আশানুরূপ। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কমানো। ৯ জুলাই শুরু হওয়া তিন দিনের দীর্ঘ বৈঠকের শেষে মিলেনি কাঙ্ক্ষিত সমাধান। সরকারের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না পরিষ্কারভাবে।
বলা হচ্ছে, পুরো জুলাইজুড়েই চলবে আলোচনার পর্ব। যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি শর্ত আর বাংলাদেশের বাস্তব সক্ষমতার দ্বন্দ্ব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কেমন ফল আসবে তা অনিশ্চিত। ট্যারিফ ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক যেন দিন দিন ঘনীভূত ধোঁয়াশায় ঘেরা।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা পরে ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশে নামানো হয়। তাতে করে বিদ্যমান ১৫ শতাংশের সঙ্গে নতুন ৩৫ শতাংশ মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগস্ট থেকে এই হারেই পণ্য পাঠাতে হবে।
এ বিষয়ে গার্মেন্টস বায়িং অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এ কে এম সাইফুর রহমান জানান, আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে রফতানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
ইতোমধ্যে এর প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অর্ডার স্থগিত করেছে। উদ্যোক্তারা এমন ইঙ্গিতই পাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ভেতরেই দিন কাটছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, ইউএসটিআরের প্রথম চিঠি ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু দ্বিতীয় চিঠি এখনও প্রকাশ হয়নি। আর যদি ৩৫ শতাংশ শুল্ক চূড়ান্ত হয়, তাহলে তা বিশাল বোঝায় পরিণত হবে।
গত অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বেশি পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ বাজার ক্রমেই পরিণত হচ্ছিল বৃহৎ রফতানি গন্তব্যে। তবে, হঠাৎ বাড়তি শুল্কে সেই গতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
শুল্ক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, দলে এমন বিশেষজ্ঞ দরকার ছিল, যারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বোঝেন ও গবেষণা করেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এসব অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।