মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকটা বিপর্যয়ের মধ্যে দেশের পুলিশি ব্যবস্থা। এক মাস পার হলেও এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি পুলিশি ব্যবস্থা। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনোযোগ বা কার্যক্রম মূলত বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন ঘিরে। এই ক্ষেত্রে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সাত-আটজন কর্মকর্তার একটি গ্রুপ অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই গ্রুপ বিগত সময়ে ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের তালিকা করছে। কে কোন থানার ওসি হবেন, কে কোন জেলার পুলিশ সুপার হবেন; রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদে কারা যাবেন—সেটা ঠিক করছে এই গ্রুপ। এই ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব কম গুরুত্ব পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় পদোন্নতি পেয়েছেন, ঢাকায় চাকরি করছেন—এমন কর্মকর্তারাও ‘বঞ্চিত’ দাবি করছেন। আবার বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে শাস্তি পেয়েছেন এমন কর্মকর্তারাও একই দাবি করে সুবিধা নিচ্ছেন। এমন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
একপর্যায়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘুষ লেনদেন না করার অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয় পুলিশ সদর দপ্তর। ৩১ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, একটি চক্র পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার আগেই ৬ আগস্ট রাতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ময়নুল ইসলামকে। এর পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশে বদলি-পদোন্নতি নিয়ে অন্তত ২২টি আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে চার শতাধিক বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে অন্তত ১৩ জনকে। চাকরি ফিরে পেয়েছেন পাঁচজন। এ ছাড়া ডিএমপি সদর দপ্তর আলাদা করে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্যকে পদায়ন করেছে।
পদোন্নতি-পদায়নে প্রভাবশালী যাঁরা
পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদোন্নতি-বদলি ঘিরে পুলিশে নতুন যে প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয়, তাদের মধ্যে অন্যতম বিসিএস ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক আহমেদ। তাঁর বাড়ি বগুড়ার নন্দীগ্রামে। তিনি সর্বশেষ রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ বছর তাঁর কোনো পদোন্নতি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সুপার থেকে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর গত ২২ আগস্ট তাঁকে ডিএমপিতে পদায়ন করা হয়।
বদলি-পদোন্নতির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ২৫ ব্যাচের একজন নারী কর্মকর্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। তাঁর স্বামী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে খুলনা অঞ্চলের একটি আসনে দলটির প্রার্থী ছিলেন। বদলি ও পদোন্নতির জন্য অনেক এই দম্পতির কাছে ধরনা দেন বলে জানা গেছে।
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনী চলেছে দলবাজি ও সিন্ডিকেট করে। আওয়ামী লীগ আমলে খুন, গুমে জড়িত এবং দলবাজদের বাদ দিয়ে পুলিশ পুনর্গঠনের জন্য পেশাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বদলি-পদোন্নতিতে যদি কোনো ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে, সেটা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।