মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
সবুজ বাংলাদেশ গড়ি, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি
অনলাইন ডেস্ক
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণের এই বিশেষ দিনটি। ১৯৭৪ সাল থেকে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এই দিনটি উদযাপন করে আসছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো—পরিবেশ সংক্রান্ত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৈশ্বিক সংহতি গড়ে তোলা।
বাংলাদেশেও ব্যাপক আয়োজনে পালিত হবে দিনটি। এবারের প্রতিপাদ্য—‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়’, আর স্লোগান—‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়’। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ ধ্বংসের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং জনগণকে পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করা।
বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ জুন সরকারি ছুটি থাকায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৫ জুন দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করবে।
ওইদিন প্রধান উপদেষ্টা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান, মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা ও পরিবেশ মেলার উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক, বৃক্ষরোপণ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অবদান রাখার জন্য সম্মানজনক পদক তুলে দেবেন।
এদিকে পরিবেশ দিবস ঘিরে ৬৪টি সংগঠন দেশজুড়ে চালাবে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন। আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দেশের প্রতিটি জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণবিরোধী মানববন্ধন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিটি জেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে অন্তত ১০০টি গাছ লাগানো হবে, যা রোপণ করা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান ও বাড়িঘরে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোকেও উপহার দেওয়া হবে অন্তত ১০টি করে গাছ। জনবহুল এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে প্ল্যাকার্ডসহ মানববন্ধন, যেখানে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরবেন প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা। বাজার, দোকানপাট ও রাস্তায় সাধারণ মানুষের মাঝে পোস্টার, লিফলেট এবং কথোপকথনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের গুরুত্ব প্রচার করা হবে।
এই কর্মসূচি নিয়ে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “৬৪ জেলার সমন্বিত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, যেখানে আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণে গর্বিত।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পলিসি ও ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, “পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে জনগণের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এই কর্মসূচি সেই রাস্তাকে মজবুত করছে এবং প্রমাণ করছে—আমরা প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, “এই আয়োজন শুধু গাছ লাগানো নয়—এটি ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতা ও টেকসই পরিবেশের প্রতীক। আমরা চাই দেশের প্রতিটি জেলা সবুজ বিপ্লবের অংশীদার হোক। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ৪৯৫টি থানায় বছরব্যাপী পরিবেশ রক্ষায় কাজ করব।”
জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বে উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিকের অর্ধেকই একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়, যার মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ পুনঃব্যবহার হয়। অবশিষ্ট অংশ নদী, সমুদ্র ও মাটিতে জমা হয়ে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিক ব্যবহারে লাগাম টেনে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের দিকে ঝুঁকে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই দূষণ রোধ করা সম্ভব।