বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
“গাড়ির বোতামগুলো উধাও হবে, এক স্ক্রিনেই মিলবে সব নিয়ন্ত্রণ”
অনলাইন ডেস্ক
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে আমাদের চারপাশ। তবে এবার একেবারে বৈপ্লবিক চমক নিয়ে হাজির হয়েছে দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট এলজি—যারা গাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ধারণাকেই আমূল বদলে দিতে যাচ্ছে। আর সেই বদলের মূলকেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এমন এক ডিসপ্লে, যা দেখতে সাধারণ স্ক্রিন হলেও, স্পর্শ পেলে নিজেই রূপ নেয় বাটনে!
সম্প্রতি এক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এলজি তাদের অত্যাধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তির ডেমো তুলে ধরেছে, যা তারা নাম দিয়েছে ‘Driving the Future’। একে সহজভাবে বলা যেতে পারে—একটি স্ক্রিন, যা আপনার গাড়ির প্রতিটি ফিচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
নতুন ডিসপ্লেটির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর রূপান্তরযোগ্য বৈশিষ্ট্য। সাধারণত গাড়ির ইন্টারফেসে একাধিক বাটন, সুইচ এবং স্ক্রিন থাকে। কিন্তু এই প্রযুক্তিতে একটি মাত্র স্ক্রিনই সেই সবকিছুর দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি সমতল স্ক্রিন থেকে নিজেই নির্দিষ্ট অংশে বাটনের মতো উঁচু হয়ে উঠবে, যেখানে স্পর্শ করলেই কমান্ড কার্যকর হবে।
এই স্মার্ট ডিসপ্লেটির রেজল্যুশনও যথেষ্ট উন্নত—প্রতি ইঞ্চিতে ১০০ পিক্সেল এবং পূর্ণ RGB রঙের গভীরতা ধরে রাখতে সক্ষম। এতে কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালানো, ম্যাপ ব্যবহার, মিউজিক প্লে কিংবা এসি নিয়ন্ত্রণ—সবই হবে এক স্ক্রিন থেকেই।
এলজির মতে, এই ডিসপ্লে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রসারিত করা যায়, তাও আবার রেজল্যুশন বা কালারের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই। মানে, স্ক্রিন বড় হলেও তা বিবর্ণ বা ঘোলাটে হবে না। এটি গাড়ির ড্যাশবোর্ডে এমনভাবে সেট করা যায়, যেন প্রতিটি ফিচার এক ক্লিকেই অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।
চালকের মনোযোগ যেন ভেঙে না পড়ে, সেটিও মাথায় রেখেছে এলজি। তাই তারা এই ডিসপ্লেতে যুক্ত করছে ‘Switchable Privacy Mode’। এর সাহায্যে গাড়ির সামনের যাত্রীরা ভিডিও দেখলেও চালক তা স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন না। ফলে চোখ থাকবে শুধুই রাস্তায়, আর সড়ক দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও হবে কম।
শুধু চালক ও সামনের যাত্রীদের নয়, পেছনের আসনে থাকা যাত্রীদের জন্যও এলজি ভাবছে বিলাসবহুল স্ক্রিন অভিজ্ঞতার কথা। তারা তৈরি করছে ১৮ ইঞ্চির স্লাইডযোগ্য OLED স্ক্রিন, যেটি সহজেই গাড়ির ছাদ থেকে নেমে আসবে বিনোদনের জন্য।
এটি কাজ করবে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি থেকে ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায়—অর্থাৎ ভয়ঙ্কর গরম বা প্রচণ্ড ঠান্ডাও এর পারফরম্যান্সে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
প্রযুক্তিবিশ্বে এলজির এমন উদ্ভাবন ভবিষ্যতের গাড়ির ভেতরের চেহারা একেবারেই পাল্টে দিতে পারে। বোতামের জঞ্জাল সরিয়ে এক স্ক্রিনেই পুরো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিঃসন্দেহে এক সাহসী পদক্ষেপ।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কবে এই প্রযুক্তি আমাদের বাস্তব জীবনের রাস্তায় নামবে। তবে এলজির হাত ধরে যে গাড়ির অভ্যন্তরীণ ডিজাইনে যুগান্তকারী রূপান্তর আসছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।