শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ন
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ি বুলডোজারের আঘাতে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশাল এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়, যা এক সময় ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক।
এর আগে, সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ধানমন্ডি ৩২-এর আশপাশে। বিক্ষোভে ফেটে পড়া হাজারো ছাত্র-জনতা রাত ৮টার দিকে রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়—জানালা, দরজা, আসবাবপত্র সবকিছু ভেঙেচুরে তছনছ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, যেন অতীতের সমস্ত স্মৃতিকে মুছে ফেলতে চায় তারা।
রাত ১০টা ৫০ মিনিটে দৃশ্যপটে আসে এক্সকাভেটর। ‘জনে জনে খবর দে, মুজিববাদের কবর দে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’—এমন সব প্রতিবাদী স্লোগানে প্রকম্পিত হয় চারপাশ।
রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিণত হয় উত্তাল সমুদ্রের মতো। শত শত মানুষ এক্সকাভেটর ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা দাবি তোলে, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আজ ছাত্রলীগের ব্যানারে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছে। যে আমাদের ভাইদের হত্যা করে দেশ থেকে পালিয়েছে, সে কীভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে?’
তাদের আরও ঘোষণা, ‘আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার কোনো অস্তিত্ব আর বাংলাদেশে রাখতে চাই না। ছাত্র হত্যাকারী ফ্যাসিবাদীদের কোনো স্মৃতিচিহ্ন রাখব না। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।’
এর আগে, ছাত্রলীগ নামের নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণার পরপরই ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচি ঘোষণা করে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। সন্ধ্যায় বিভিন্ন ফেসবুক পেজেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের ডাক।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ আন্দোলনে চরম উত্তেজনার মধ্যে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা এবং রাতের আঁধারে দেশ ছাড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আজকের ধ্বংসযজ্ঞ যেন সেই ঘটনারই চূড়ান্ত পরিণতি।