বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় একাধিক লাশের পরিচয় মিলল ডিএনএ-তে
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে মৃতের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। দুর্ঘটনার পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫টি ‘বডিব্যাগ’ পাঠানো হলেও ডিএনএ মেলানোর পর নিশ্চিত হওয়া গেছে ১৪ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে, একজনের তথ্য বাদ দিয়ে নতুন করে হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, শনিবার বার্ন ইনস্টিটিউটে দুজনের মৃত্যুতে মৃতের সংখ্যা ৩৫ ধরা হলেও রোববার সকালে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা সংশোধন করে ৩৪ জানানো হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার তারা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
সিআইডির ফরেনসিক টিম সিএমএইচে থাকা অশনাক্ত মৃতদেহ ও দেহাংশ থেকে ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। সেগুলোর মধ্যে ওকিয়া ফেরদৌস নিধি, লামিয়া আক্তার সোনিয়া, আফসানা আক্তার প্রিয়া, রাইসা মনি এবং মারিয়াম উম্মে আফিয়ার পরিচয় শনাক্ত হয়।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিএমএইচ থেকে প্রাপ্ত একটি চিঠির বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানায়, ২১ জুলাই সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘বডিব্যাগ’ গ্রহণ করে। এর মধ্যে তুরাগ থানা পুলিশ ১১টি সম্পূর্ণ মৃতদেহ, ২টি অপূর্ণাঙ্গ মৃতদেহ ও ৫টি দেহাংশ শনাক্ত করে সুরতহাল করে।
ঘটনার দিন আটটি এবং পরদিন আরও একটি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ২টি মৃতদেহ, ২টি অপূর্ণাঙ্গ দেহ এবং ৫টি দেহাংশ থেকে ২২ জুলাই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি ফরেনসিক টিম। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে তুরাগ থানা পুলিশ তাদের মরদেহ ও দেহাবশেষ হস্তান্তর করে।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য জানাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফোকাল পারসন ডা. সরকার ফারহানা কবীর গণমাধ্যমকে জানান, সিএমএইচ থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা আপডেট করা হয়েছে।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১৭ জন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে, ১৪ জন সিএমএইচে, একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজন লুবানা জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। লুবানায় মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি।