সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই-নিরস্ত্র) পদের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগের পরিধি আরও বেড়ে গেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গত কয়েকটি ব্যাচ থেকে প্রার্থীদের একাধিক ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ভালো প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।
প্রার্থী বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ: প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং
এসএসসি, এইচএসসি এবং ডিগ্রি/স্নাতক/সমমান পরীক্ষার ফলাফল ও উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে আবেদনকারীদের ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক বাছাই করা হবে। নির্ধারিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।
শারীরিক মাপ ও সহনশীলতা পরীক্ষা
ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থানে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণ এবং শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই ধাপে প্রার্থীদের সাতটি ইভেন্টে পরীক্ষা দিতে হবে। ইভেন্টগুলো হলো দৌড়, লংজাম্প, হাইজাম্প, পুশআপ, সিটআপ, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইম্বিং। তিন দিনের মধ্যে সব ইভেন্টে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা
শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনে ১০০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান ও গণিতে ১০০ নম্বর এবং মনস্তত্ত্বে ৫০ নম্বরের মোট ২৫০ নম্বরের লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা
লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত সময় ও স্থানে কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মাইক্রোসফট অফিস, ওয়েব ব্রাউজিং ও ট্রাবলশুটিংয়ের ওপর এই পরীক্ষা হবে।
বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা
এই ধাপে প্রার্থীদের ৫০ নম্বরের বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত, মনস্তত্ত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগবিধি অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা
লিখিত, মনস্তত্ত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নির্ধারিত তারিখে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই পরীক্ষায় কোনো প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হলে তাকে আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না।
পুলিশ ভেরিফিকেশন
স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক বিবেচিত হলে প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হবে।
মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন
নিয়োগবিধি অনুযায়ী সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্নের পর চূড়ান্ত মনোনীত হবে। তথ্য গোপন করা বা ভুল, মিথ্যা ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।
প্রস্তুতির জন্য করণীয়
৩৯তম ব্যাচের সুপারিশপ্রাপ্ত মো. নাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড়ের প্রস্তুতির জন্য সহনশীলতা বাড়াতে হালকা ওজন নিয়ে দৌড়ানো, শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের জন্য দম চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। হাইজাম্পের জন্য স্কোয়াট কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। পুশআপের জন্য প্রতিদিন ১০-১৫টি দিয়ে শুরু করে ক্রমে সংখ্যা বাড়ানো উচিত। সিটআপের জন্য পেটের পেশি শক্তিশালী করতে প্রতিদিন ২০-২৫টি সিটআপ দেওয়া প্রয়োজন। ওজন টেনে আনার ক্ষমতা বাড়াতে ওজন বহনের চর্চা করতে হবে। পুলিশের উপপরিদর্শক মাহফুজার রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত অফিসার হতে হলে কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। লিখিত পরীক্ষার আগে মাঠের পরীক্ষায় পাস করতে হবে। এ জন্য কঠোর অনুশীলনের বিকল্প নেই। নতুন নিয়মে সাতটি ধাপে মাঠের পরীক্ষা হয়। প্রতিটি ধাপে আলাদা আলাদা পাস করতে হয়। নিয়মিত চর্চা জরুরি। আবেদন করার পর থেকেই বাসার আশপাশের মাঠে প্রতিদিন দৌড়ানোর অভ্যাস করা উচিত। ইউটিউবে এসআই নিয়োগের ভিডিও টিউটরিয়াল দেখে লংজাম্প, হাইজাম্প, পুশআপ, সিটআপ, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইম্বিং অনুশীলন করা যেতে পারে।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মো. নাহিদুল ইসলাম বলেছেন, বানান ঠিক রেখে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং ও প্রাসঙ্গিক লেখার চর্চা করতে হবে। নিজের ভাষায় কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে লেখার অভ্যাস এবং সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান দিলে নম্বর ভালো পাওয়া যাবে। প্রতিটি বিষয়ে পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। ইংরেজি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদে জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অনুবাদ এবং রচনা বা ভাবসম্প্রসারণ চর্চা করতে হবে। গণিতে ভালো করতে হলে মাধ্যমিক পর্যায়ের বোর্ড বইয়ের মৌলিক গণিতের বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য চলতি বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। নিয়মিত পত্রিকা পড়া জরুরি।