মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে না চললে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলভিত্তিক একটি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, হয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির সঙ্গে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদের বৈঠকের পরপরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে। গত সপ্তাহে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই ওই বৈঠক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, অঞ্চলের জলসীমায় একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। এই বহরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চ্যানেল ১২ এবং অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়েও বিবেচনা করছে। এতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুনরায় সক্রিয় করেছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের কাছে তিনটি প্রধান শর্ত উপস্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।
প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ বৃদ্ধি করেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম কেবল বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
অন্যদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তেহরান সরকার দাবি করছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।