সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
বাতাসে মৃদু শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে, আর ভ্রমণপিপাসুরা এরই মধ্যে খুঁজে নিচ্ছেন উপযুক্ত গন্তব্য। শীতকে বলা হয় ভ্রমণের সেরা সময়, আর এই সময়ে বাংলাদেশ তার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে হাতছানি দিচ্ছে। সবুজে মোড়ানো এই দেশ যেন ভ্রমণপ্রেমীদের মুগ্ধ করার জন্য তৈরি। ব্যস্ত শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এখন অনেকে ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
কিছু রিসোর্ট শহরের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন শীতের দিনগুলো। একা বা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই চমৎকার রিসোর্টগুলোতে।
ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা: ঢাকার কাছেই, গাজীপুরের নলজানি গ্রামে ৩১ মাইল দূরে অবস্থিত ভাওয়াল রিসোর্ট। শালবনের মাঝে স্থাপিত এই রিসোর্টের প্রধান আকর্ষণ বিশাল সুইমিংপুল। এখানে ৬২টি ফ্যামিলি ভিলা, জিমনেসিয়াম, স্পা, সাইক্লিং, বারবিকিউসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। প্রকৃতির নৈসর্গিক পরিবেশে ছুটি কাটানোর জন্য এটি একটি দারুণ জায়গা।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট: গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টে রয়েছে সুইমিংপুল, ওয়াটার বাংলো, কটেজ, ডাইনিং হল ও কনফারেন্স সেন্টার। ২০১১ সালে পরিচালক তৌকির আহমেদ ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত এই রিসোর্টটি তৈরি করেন। বাঁশ ও কাঠের তৈরি ১১টি কটেজ বা ওয়াটার বাংলো নক্ষত্রবাড়ির মূল আকর্ষণ। বোটিং ও মাছ ধরার সুবিধাও এখানে রয়েছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত।

ভাটিয়ারীর মাটিটা, চট্টগ্রাম: পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত ভাটিয়ারীর মাটিটা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ইকো-রিসোর্ট ও অ্যাডভেঞ্চার স্পট। এখানকার প্রতিটি রুম পরিবেশবান্ধব, এবং রয়েছে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সুযোগ। বোটিং, কায়াকিং, ক্যাম্পিংসহ নানা ধরনের মজার অ্যাক্টিভিটি উপভোগ করতে পারবেন। এখানে খোলা মাঠে রাতের বেলা প্রজেক্টরের মাধ্যমে মুভি দেখার আয়োজন থাকে। পাহাড়ে ট্রেকিং এবং লাইভ বারবিকিউও রয়েছে।
সুইস ভ্যালি রিসোর্ট, শ্রীমঙ্গল: সুইস ভ্যালি রিসোর্ট শ্রীমঙ্গলের শমসেরনগরে অবস্থিত। এই পরিবেশবান্ধব রিসোর্টটি গ্রামীণ আবহে তৈরি। এখানে এসি ও নন-এসি রুমের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে দুজনের জন্য নন-এসি রুম ২,৫০০ টাকা এবং এসি রুম ৩,৭০০ টাকা। এ ছাড়া বড় প্যাকেজও রয়েছে, যার মধ্যে কিছু ১৫,০০০ টাকার মধ্যে।

মালনীছড়া চা-বাগান, সিলেট: উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো এবং বৃহত্তম চা-বাগান মালনীছড়া, যা ১৮৪৯ সালে গড়ে তোলা হয়। প্রাচীন এই চা-বাগান ঘুরে দেখতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসা যায়। বাগানের মধ্য দিয়ে হাঁটা আর সবুজের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।
শীতকালে বাংলাদেশের এই মনোরম ভ্রমণস্থানগুলো প্রকৃতির শীতলতা উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত। তবে যাত্রার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যেমন গরম কাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা। একটি ভালো পরিকল্পনা ও সতর্ক প্রস্তুতিই ভ্রমণকে করে তুলতে পারে আরও নিরাপদ ও উপভোগ্য।