শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
গত জুলাই-আগস্টে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ছিল। বিপুল রক্তপাতের এ গণ-আন্দোলনে হতাহতের মধ্যে শিক্ষার্থীদেরও পাওয়া যায়। শুধু আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নিয়েও অনেক শিশু মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। অনেক শিশুর মধ্যে এক ধরনের মানসিক ট্রমা দেখা দিয়েছে, যা থেকে মুক্তি পেতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও চিকিৎসা যথাযথ গুরুত্ব পায় না, যা শারীরিক চিকিৎসার মতো দেখা উচিত। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত হতে পারে। এ ব্যাপারটি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
গত রোববার বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান ও ব্র্যাক শিক্ষা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উঠে আসে যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, নির্যাতন ও মামলার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের মনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকে আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নিয়েও প্রচুর হতাহতের খবর শুনে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। শিশুরা সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে, কারও কাছ থেকে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জেনেছে, বা গণমাধ্যম থেকে খবর দেখে সেসব কল্পনা করেছে। তারা গুরুতর আঘাত ও মৃত্যুর কথা জেনে ভয়, আতঙ্ক, এবং হতাশায় ভুগছে। বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখায় তাদের মানসিক চাপ আরও বেড়েছে। এর ফলে তারা ভয়, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা, চমকে ওঠা, বিচ্ছিন্নতা ও অসহায়ত্বের মতো আচরণিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় বলেন, শিশুদের এই মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পরিবার ও স্কুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাদের প্রতি বেশি যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। পরিবারের উচিত শিশুদের খেলার সুযোগ করে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক বা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। কায়িক পরিশ্রমের খেলাধুলা ট্রমা কাটাতে সহায়ক হতে পারে, যেমন বাসার আশপাশের মাঠ বা পার্কে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু অনেক স্কুলে খেলার মাঠ নেই, যা শিশুর বিকাশে সহায়ক হতে পারত। আলোচনায় ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক নয়টি খেলার মাঠ দখল করে পানির ট্যাংক স্থাপনের বিষয়টিও উঠে আসে। এসব মাঠ উদ্ধারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পরিবারকে আরও সক্রিয় হতে হবে, শিশুকে সময় দিতে হবে, এবং সৃজনশীল কার্যকলাপে যুক্ত করতে হবে। স্কুলগুলোতেও বিনোদনমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিতে হবে।