সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো ভারতেই অবস্থান করছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার কারণে অল্প সময়ের নোটিশে শেখ হাসিনা ভারতে চলে এসেছিলেন এবং এখনো সেখানেই রয়েছেন।
শেখ হাসিনা ভারতে আছেন নাকি অন্য কোনো দেশে গেছেন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে কখনো বলা হয়, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে গেছেন, আবার কখনো শোনা যায়, ভারত সরকার তাঁর জন্য ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করেছে। এসবের প্রকৃত সত্য কী, এবং শেখ হাসিনা সত্যিই ভারতে আছেন কি না, তা জানার জন্য সাংবাদিকেরা ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আসার বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে অল্প সময়ের নোটিশে তিনি ভারতে এসেছিলেন এবং এখানেই অবস্থান করছেন, থাকবেন (কন্টিনিউজ টু বি)।’
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাঁদের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের মনোভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, তাঁরা এই বিষয়ে প্রতিবেদন দেখেছেন, কিন্তু এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাই নয়, বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চসহ ৮টি জাতীয় দিবস বাতিলের অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়নি। স্বাভাবিকতা ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, জরুরি প্রয়োজন ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সীমিত আকারে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে ভিসা প্রক্রিয়ারও উন্নতি হবে।
এ প্রসঙ্গে জয়সোয়াল আরও উল্লেখ করেন, সে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ এবং দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভাঙচুরের ঘটনার বিরুদ্ধে ভারত আগেই বিবৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তখন সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবং সেই প্রতিশ্রুতি তাদের পালন করা উচিত।