সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে ১১ জানুয়ারি শুরু হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৩তম আসর। ৭৫টি দেশের ২২০টি চলচ্চিত্র নিয়ে নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ। বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে এবারের উৎসবে ফোকাস কান্ট্রি হিসেবে ছিল চীন। আজ উৎসবের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। বিকেল ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সভাপতিত্ব করবেন বিইআরসির চেয়ারম্যান ও উৎসবের নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন উৎসবের চেয়ারপারসন কিশওয়ার কামাল, উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামালসহ আরও অনেকে।
সমাপনী দিনে সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে দেখানো হবে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কারপ্রাপ্ত ইকবাল হোসাইন চৌধুরী পরিচালিত এবং নাসির উদ্দিন খান অভিনীত ‘বলী’। এছাড়া সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সকাল থেকে দিনব্যাপী প্রদর্শিত হবে বিদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে তৌফিক এলাহী পরিচালিত এবং রুনা খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘নীলপদ্ম’। বিকেল ৫টায় সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত ও চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত, কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘পদাতিক’ প্রদর্শিত হবে।
এবারের উৎসবে দেখানো হয়েছে এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানোরামা, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেনস ফিল্ম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নানা পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমা। এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন, কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে।
উৎসবের ধারাবাহিকতায় ১২ ও ১৩ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী ‘একাদশ আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান। সভাপতিত্ব করেন উৎসবের চেয়ারপারসন কিশওয়ার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং চীনের চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক ঝ্যাং ইউদি। এছাড়াও ১৭-১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র বিষয়ক মাস্টার ক্লাস। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন চীনের লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ঝ্যাং ইউদি, সার্বিয়ার অধ্যাপক ড্রেগেন মিলিনকোভিচ, নরওয়ের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক অগি হোফার্ট এবং বাংলাদেশের চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে উৎসবে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পাশাপাশি ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে ‘পার্সপেকটিভ: অ্যা কনটেম্পোরারি গ্রুপ আর্ট এক্সিবিশন’ শীর্ষক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হয়। এতে প্রতিভাবান তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত বরেণ্য শিল্পীদের শিল্পকর্ম স্থান পায়।
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসব। স্থানীয় নির্মাতাদের বিশ্ব চলচ্চিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৩টি আসর সফলভাবে আয়োজন করেছে। তবে এবারের উৎসব আগের তুলনায় কিছুটা সীমিত আকারে হয়েছে। দর্শক সংখ্যা কম থাকলেও ‘প্রিয় মালতী’, ‘পদাতিক’, ‘নীলপদ্ম’সহ কয়েকটি দেশীয় চলচ্চিত্রে দর্শকদের ব্যাপক সমাগম ছিল। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল জানান, ‘স্পন্সর সংকটের কারণে এবারের আয়োজন সীমিত করতে হয়েছে। অনেক বিদেশি তারকা আসতে আগ্রহী হলেও আনা সম্ভব হয়নি। তবে ২৫তম আসর আরও জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আমরা আশা করছি। এর মধ্যেই আমাদের স্থায়ী ভেন্যু পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।